সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ঘিরে সরব খাগড়াছড়ি শহর

দীর্ঘ ৮ বছর পর সোমবার ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। বহুল প্রত্যাশিত এই সম্মেলনকে ঘিরে খাগড়াছড়ি জেলাশহর নেতাকর্মী ও পদ-প্রত্যাশীদের পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে। ঝিমিয়ে পড়া খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির ময়দান। কাউন্সিলকে সামনে রেখে পৌর শহর থেকে উপজেলার হাটবাজারগুলো রঙিন ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। কাউন্সিলকে সফল করতে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি।

সকালে শহরের পৌর টাউন হলে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রতিমন্ত্রী পদ-মর্যাদায় শরণার্থী টাস্কফোর্সের কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কাউন্সিল অধিবেশনের উদ্বোধন করবেন।

কাউন্সিলে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরীসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দরা এতে অংশগ্রহণ করবেন বলে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৫ জুন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে খোকনেশ্বর ত্রিপুরা সভাপতি ও চন্দন কুমার দে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের ১৫ জুন কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও নানা অজুহাতে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে এবারের কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে শক্ত প্রতিদ্বন্ধিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কারা আসছেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব সেদিকে তাকিয়ে আছে তৃনমুলের নেতাকর্মীরা।

সভাপতি পদে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরা, জেলা শ্রমিক লীগের নেতা মো: নুরনবী, পেরাছড়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান সঞ্জীব ত্রিপুরা এবং সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নরোত্তম দাশ বৈষ্ণব।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারন সম্পাদক চন্দন কুমার দে,সাবেক ছাত্রনেতা বিশ^জিত রায় দাশ, বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক থোইমং মারমা, বুলবুল আহম্মেদ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুথান চৌধুরী কাউন্সিলরদের কাছে রায় প্রত্যাশার জন্য ধর্ণা দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন কমিটির নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দলকে শক্তিশালী করতে শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। সংগঠনকে সু-শৃঙ্খল গতিশীল করে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পুরণ এবং একই সাথে সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁরা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে চান।

পেরাছড়া-ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের কাউন্সিলররা জানান,যাঁরা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বাড়ি-গাড়ি আর বিপুল অর্থের মালিক বনেছেন; তাঁদেরকে উৎখাত করার সুযোগ এসেছে দীর্ঘদিন পর। তাই পদ ও দলের বৈষয়িক সুযোগকে আঁকড়ে রাখার জন্য একটি পক্ষ ‘পাহাড়ি-বাঙালি’ সাম্প্রদায়িকতার ধুয়া তুলে কাউন্সিলের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নস্যাৎ করতে চাচ্ছেন।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক নুরুল আজম জানান,কাউন্সিলে ৫ ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও ১৫ জন উপদেষ্টাসহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের মোট ২‘শ ৩৭ জন কাউন্সিলর প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির সভাপতি এবং সা: সম্পাদক নির্বাচিত হবেন।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সা: সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, সোমবার সম্মেলনের পরের অধিবেশনে কাউন্সিল কার্যক্রম শুরু হবে। তাতে গঠনতান্ত্রিকভাবে যাঁদের প্রাথিৃতা বৈধতা পাবে, তাঁরাই প্রার্থী বলে বিবেচিত হবেন। সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন পদগুলোতে একাধিক প্রার্থী হলে প্রাথমিকভাবে নিজেদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। সেটি সম্ভব না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত কাউন্সিলরদের গোপন ব্যালটে মতামত চাওয়া হবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।