সন্ত্রাসীরা বাইশারী এলাকার নয় বরং বহিরাগত : লে.কর্ণেল আনোয়ারুল আজিম

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বৃহত্তর বাইশারী ইউনিয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জনবান্ধব এলাকা। এখানে পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের সম্প্রীতির বসবাস। এখানকার লোকজন খুবই শান্ত। এই শান্ত এলাকাকে অশান্ত করতে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত হানা দিচ্ছে বাইশারী এলাকায়। তারা বাইশারীর অভ্যন্তরিন প্রবেশ করে সাধারন মানুষদের জিম্মি করে মুক্তিপন আদায় করে যাচ্ছে। বাইশারীতে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি, অপহরন, ডাকাতি বা চাদাঁবাজির ঘটনায় যারা জড়িত তারা সবাই বহিরাগত নাগরিক। তাই এসব সন্ত্রাস, চাদাঁবাজদের বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্তক থেকে বিজিবি প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং মানুষ একই লাল রক্তে গড়া। আমাদের পরিচয় আমরা মানুষ। একে অপরকে আপন করে নিতে পারলেই এলাকায় সম্প্রীতি অটুট থাকবে। এলাকার আইন শৃঙ্খলাসহ অপরাধ দমনে জনসাধারণকে বিজিবির সহযোগী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান। ১৩ মে (শনিবার) নারিচবুনিয়া ধৈয়ারবাপের পাড়ায় বসবাসরত মার্মা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড নিয়ে মতবিনিময় কালে নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ৩১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ান অধিনায়ক লে.কর্ণেল আনোয়ারুল আজিম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ধৈয়ারবাপের পাড়ায় বসবাসরত ১ শত উপজাতীয় পরিবারের সূবিধার্থে ৮টি স্যানিটারী লেট্রিন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও বিজিবি আপনাদের পাশে থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাবে। তিনি উপজাতীয় ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার বিষয়ে খেয়াল রাখার জন্য মা-বাবার প্রতি আহবান জানান। মতবিনিময় সভা শেষে ধৈয়ারবাপের পাড়া রাখিতা শিল্পি গোষ্ঠীর নৃত্য পরিবেশনে সন্তুষ্ট হয়ে সদস্যদের সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্যকালে উপজাতীয় নেতা নিউহ্লামং মার্মা ও শিক্ষক মংলাগ্য মার্মা বলেন, সেনা- বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসন আমাদের শত্রু নয় বরং তারা আমাদের বন্ধু। একটি কুচক্রি মহল উপজাতীয় বাসিন্দাদের ভূল বুঝিয়ে যাচ্ছে। যাতে আমরা সেনা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনকে শত্রু মনে করি। নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ৩১ বিজিবি এলাকার নারী-পুরুষের স্যানিটারী লেট্রিন নির্মাণ করে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে তারা পাহাড়ীদের সর্বপ্রকার সহযোগীতায় এগিয়ে এসেছেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন।
মতবিনিময় সভায় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলম জানান, পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় নিরাপত্তার ভয়ে সাধারন মানুষরা এখন এগিয়ে আসে না। কারণ পুলিশ প্রশাসন সাধারন লোকজনের দেওয়া গোপনীয় বার্তা সমূহ প্রকাশ করে দেয়। তিনি আরো বলেন, বাইশারীর গহীন বনে অবস্থিত রাবার বাগানে এসে অস্ত্রধারীরা প্রতিনিয়ত রাবার বাগান মালিকদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে চাঁদার জন্য। চাঁদা না দিলে বাগান বন্ধ করে দেবে সন্ত্রাসীরা। এসব সন্ত্রাসীদের ধরতে সাধারন পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের বিজিবি কে সার্বিক সহযোগীতার আহবান জানান।
নারিচবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মংলাগ্য মার্মার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বিজিবির নায়েব সুবেদার মো. খুরশেদ আলম, বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলম, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মাঈন উদ্দিন খালেদ, প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক আবুল বাশার নয়ন, সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল হামিদ, যুগ্ন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম কাজল, তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী, সহ ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ শাহিন, নির্বাহী সদস্য মুফিজুর রহমান, ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, সাবেক ইউপি সদস্য আজিজুল হক, উপজাতীয় নেতা নিউহ্লামং মার্মা, যুবলীগ সভপতি আবুল কালাম, সাধারন সম্পাদক নুরুল আলম, সাংগঠনিক নুরুল কবির রাশেদ প্রমুখ।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।