সুপ্রদীপ চাকমার ‘আদিবাসী’ দাবির তীব্র নিন্দা জানালো পিসিসিপি

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের দাবিকে সংবিধানবিরোধী এবং বিভাজনমূলক আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি। একইসঙ্গে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর কর্মকাণ্ডকেও ‘লাগামহীন’ বলে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ শনিবার (২৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পিসিসিপি জানায়, সম্প্রতি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০’ সংশোধন করে ‘নৃ-বৈচিত্র্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান অধ্যাদেশ, ২০২৫ (প্রস্তাবিত)’ নামে নতুন একটি আইনের খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সাতটি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ওই সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন—“আমরা আদিবাসী শব্দটি চাচ্ছি শুধু আমাদের আইডেন্টিফিকেশনের জন্য। আমরা পাহাড়ি-বাঙালি একসাথে থাকতে চাই। কারণ বাঙালিদের ছাড়া আমাদের উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

পিসিসিপির মতে, এই বক্তব্য স্পষ্টভাবে বাংলাদেশ সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী, যেখানে বলা হয়েছে—“রাষ্ট্রের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি এবং নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের নাগরিক হইবে।” তারা মনে করে, একজন দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য অনভিপ্রেত এবং এটি জাতিগত বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

NewsDetails_03

পিসিসিপি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, সভায় প্রস্তাবিত ৭(ঘ) ধারা সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত ৬ জন প্রতিনিধিকে সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় যুক্ত করার যে প্রস্তাব উঠেছে, তা একতরফা প্রতিনিধিত্ব তৈরি করতে পারে। এতে পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংগঠনটির চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার বন্ধে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা, সংবিধান বিরোধী বক্তব্যদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক অধিকারের রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধ এবং পাহাড়ে সহাবস্থানের পরিবেশ রক্ষা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা অতীতেও বিভিন্ন বরাদ্দে অনিয়ম ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এসব কর্মকাণ্ড থেকে তাকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে পিসিসিপি বলে, “পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।”

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, “পাহাড় নিয়ে উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে যদি বিতর্কিত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।”

আরও পড়ুন