সেনাবাহিনী দিয়ে ভোটগ্রহণে রিট : হাইকোর্ট বললেন ‘পরে আসুন’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান) সদস্যদের দিয়ে তিনশ আসনে ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল ঘোষণা চেয়ে করা রিট আবেদনে শুনানি প্রথমে উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন। এরপরও শুনানি করতে চাইলে অবকাশকালীন ছুটির পর আসার জন্য বলেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানিতে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। তিনি বলেন, আজ রিটের শুনানি হয়নি। আবেদনটির ওপর সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষ হলে তারপর শুনানি করা হবে বলে আদালত আজ আদেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, রিটে সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফল প্রকাশের নির্দেশনা চেয়েছিলাম। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের অবকাশের পর এ গ্রাউন্ডের ওপর শুনানি না হলেও রিটে আরও অন্যান্য যেসব গ্রাউন্ডে আরজি জানানো হয়েছে তার ওপর শুনানি করা হবে।

তবে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোতাহার হোসেন সাজু জাগো নিউজকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের শীতকালীন অবকাশ শেষে (আগামী ২ জানুয়ারির পর) শুনানির জন্য আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর আগে রিট আবেদনে শুনানিতে প্রথমে (নট প্রেস রিজেক্ট) উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেছিলেন। পরে রিটকারী আইনজীবী শুনানি করবেন বলে জানালে আদালত এ সময় বলেন, ‘পরে আসুন’।

এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

রিটে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় ব্যর্থতা কেন অসংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে, দেশের সব কেন্দ্রে সেনাবাহিনী দিয়ে ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফল প্রকাশের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়।

রুলে এক দলের নেতার ছবি অন্য দলের প্রার্থীদের জন্য এবং এক দলের প্রতীক অন্য দলের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তারও নির্দেশনা জানতে চাওয়া হয়।

এছাড়াও এক দলের প্রার্থী অন্য দলের নেতার ছবি ও প্রতীক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রিটকারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। রিটে রুল জারির পর তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ২০ বা ১৪ দল নামে জোট গঠন করে নির্বাচন করার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ১৪ দলের পক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ২০ দলের পক্ষ বিএনপি মহাসচিব, বিভাগীয় রিটার্নিং অফিসার, বিভাগীয় কমিশনার ঢাকা, রাশেদ খান মেনন ও মির্জা আব্বাসসহ ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

তিনি (ইউনুছ আলী আকন্দ) আইনজীবী ও ঢাকা-৮ আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান) চেয়ে রিট আবেদন করেছেন জানতে চাইলে, আইনজীবী ইউনুছ আলী জাগো নিউজকে জানান, সংবিধান অনুযায়ী জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অবৈধ। কারণ দুই দলের সভাপতি মিলে প্রচার প্রচারণা চালায়। এখানে কে কোন দলের সভাপতি, সম্পাদক তার কোনো চিহ্নই থাকে না।

ইউনুছ আলী আরও বলেন, সংবিধানের ১১৮ এবং ১২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের জনবল দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সরকারি কর্মচারী দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করছে। যা সংবিধান পরিপন্থী।

রিটের যুক্তিতে তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের পর কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হচ্ছে না, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছিল। ২০০৮ সালে দেশের জনগণের ভোটার আইডি (ন্যাশনাল আইডি) তৈরির কাজে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছিল। পরে সেই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ভোটার আইডি (ন্যাশনাল আইডি) তৈরির কাজ করেছিল সেনাবাহিনী। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী দিয়ে ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফল প্রকাশের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে গত ১৯ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্টদের প্রতি নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। নোটিশের কোনো জবাব না দেয়ায় এই রিট করা হয়। আজ রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হলে পরে আসতে বলেন আদালত।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।