সৌন্দর্যহানীতে পর্যটক শুন্য লামার মিরিঞ্জা

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যে ঘেরা বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন কেন্দ্রটি পর্যটন করর্পোরেশনের তত্বাবধানে একটি আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে ও দিন দিন অযত্ন আর অবহেলায় সৌন্দর্য্য হারাতে বসেছে মিরিঞ্জা, ফলে পর্যটন টানতে পারছেনা বিনোদন কেন্দ্রটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের বিনোদনের জন্য ২০০৩ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ৩৩ একর জায়গা নিয়ে যাত্রা শুরু করে মিরিঞ্জা। উদ্বোধনের পরপরই এই পর্যটন কেন্দ্রে প্রতিদিনই ভীড় থাকত পর্যটকদের। কিন্তুু যাত্রা শুরুর পর থেকে মিরিঞ্জায় কোন উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ করেনি কর্তৃপক্ষ, ফলে ভোগান্তীতে পড়তে হচ্ছে এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মো কামরুজ্জামন বলেন, মিরিঞ্জায় শুধু পাহাড় আর গাছ পালা আছে, বিশ টাকা দিয়ে টিকেট নিয়ে প্রবেশ করলাম, দেখি বিশ টাকার কোন সুযোগ সুবিধা নেই এখানে।

কক্সবাজা থেকে আসা পর্যটন মো. কামাল হোসনে বলেন, এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অনেক অভাব রয়েছে। যদি কর্তৃপক্ষ একটু নজর দেন তাহলে পর্যটকদের জন্য অনেকাংশে ভালো হবে।

ভৌগলিক অবস্থানগত দিক থেকে পাহাড় ও নদী বেষ্টিত হওয়ায় দেশের অন্যান্য জেলা উপজেলার চেয়ে পুরোপুরি বৈচিত্যময় এই স্থানটি। মিরিঞ্জার দক্ষিণে রয়েছে আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আর পশ্চিমে কক্সবাজারের রামু ও চকরিয়া এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা আর অন্যদিকে উত্তরে বান্দরবানের সুয়ালক ইউনিয়ন ও পূর্বে বান্দরবানের থানছি ও রুমা উপজেলা থাকায় প্রতিদিনই এখানে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। কিন্তুু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আধুনিক সুযোগ সুবিধা না থাকা এবং সংস্কার কাজ না করায় দিন দিন পর্যটক বিমুখ হয়ে পড়ছে এই পর্যটন কেন্দ্রটি, আর সরকার হারাছে রাজস্ব।

মহিষখালী থেকে আসা পর্যটক নিশাত সুলতানা বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে মিরিঞ্জার পর্যটনের নাম শুনছিলাম তাই আজ চলে এলাম, এখানে মহিলাদের বসার কোন বেঞ্চ নেই,কোন টয়লেট নেই,পানির ব্যবস্থা নেই।

অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভুমি পার্বত্য জেলা বান্দরবান জেলার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র লামা উপজেলার মিরিঞ্জা। লামা উপজেলা সদর থেকে এই পর্যটন কেন্দ্রের দুরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার। লামার প্রধান সড়কের পাশে অবস্থান হওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতমানের হওয়া স্বত্তে¡ও পর্যটক টানতে পারছেনা একসময়ের জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রটি।

এদিকে লামা পৌরসভার মেয়র মো.জহিরুল ইসলাম বলেন, লামায় একটি মাত্র পর্যটন কেন্দ্র আছে, এটি বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও লামা উপজেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করেন, তবে অবহেলিত। এটি সংস্কারের মাধ্যমে সম্প্রসারণ করা হলে এখানে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক ভ্রমণে আসবে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো:দাউদুল ইসলাম বলেন, আগের মত পর্যটক বর্তমানে মিরিঞ্জাতে আর আসে না। ফলে মিরিঞ্জা থেকে যেই আয় হওয়ার কথা সেটা ও কমে গেছে। তিনি আরো বলেন,মিরিঞ্জার উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও সরকারের কাছে বরাদ্দের আবেদন করবো।

প্রয়োজনীয় সংস্কার আর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে মিরিঞ্জা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগম বাড়বে, ফলে এই পর্যটন কেন্দ্র হতে সরকার আরো বেশি রাজস্ব আদায় করতে পারবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন
Loading...