হাইকোর্টের আদেশ মানছেনা খাগড়াছড়ির অবৈধ ইটভাটা মালিক

সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক খাগড়াছড়িতে ৩৩টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ ঘোষণা করেছে বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসন। তবে হাইকোর্টের আদেশ ও প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অধিকাংশ ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইটভাটা মালিকরা।

মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলার দীঘিনালা উপজেলার রশিক নগরের সেলিম এন্ড ব্রাদার্স ও বিকেলে পানছড়ির লোগাং’র মো. মোস্তফা ও সেলিম এন্ড ব্রাদার্স যৌথ ইটভাটা, লতিবানের এমআরএস ও আরএসএইচ ইটভাটায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা প্রশাসনের ইটভাটা বন্ধ ঘোষণার ব্যানার ঝুলানো আছে ঠিকই। কিন্তু নির্দেশনার বালাই নেই সেখানে। বয়লারের মাথায় উড়ছে জ্বলন্ত ভাটার ধোঁয়া। সেলিম এন্ড ব্রাদার্স ভাটার কাঁচা ইট লোড পাকা ইট আনলোড চলছে হরহামেশাই। শ্রমিকরা তালে তালে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইটভাটার কাজে নিয়জিত একাধিক শ্রমিক বলেন, মালিকের নির্দেশেই আমরা ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা পেটের দায়ে কাজ করি। প্রশাসন বন্ধ ঘোষণা করার পরেরদিন থেকেই আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

দীঘিনালার সেলিম এন্ড ব্রাদার্স ইটভাটার ম্যানেজার মো. মাসুদ বলেন, আমরা কাজ চালাচ্ছি তো কি হয়েছে? সরকার নির্দেশনা দিয়েছে ভাল। তবে বন্ধ করতে একটু সময় লাগবে। এরমধ্যে ভাটার মালিক সেলিম সাব সব কাগজপত্র ঠিক করে আনবে। অন্যদিকে এমআরএস ও আরএসএইচ ইটভাটার সংশ্লিষ্ট কেউ কথা বলতে রাজি হননি৷

একাধিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী রিট পিটিশন ১২০৪/২০২২ মোতাবেক অবৈধ ও লাইসেন্স বিহীন পরিচালিত জেলার মোট ৩৩টি ইটভাটার সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে স্ব-স্ব উপজেলা প্রশাসন। এ সময় প্রতিটি ইটভাটায় নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়াসহ ও লাল নিশানা (লাল পতাকা) উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যদি এ আদেশ কেউ না মেনে ভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করে তাহলে সেসব ভাটার মালিকের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।