হাজারো পর্যটকে মুখরিত বান্দরবান

মেঘলায় ভ্রমনপ্রেমীদের ভীর
মেঘলায় ভ্রমনপ্রেমীদের ভীর
ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বান্দরবান। ঈদের প্রথম দিন থেকেই পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে পর্যটনস্পটগুলোতে ।
গত বছর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ঈদে পর্যটন ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে না পারলেও এবার হাজরো পর্যটকের ভিড় বান্দরবানে। বাংলার দার্জিলিং নামে পরিচিত সারি সারি পাহাড়ের কোল ঘেষে বয়ে চলা চঞ্চলা শঙ্খ নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা শান্ত সবুজ জনপদ ৭টি উপজেলা নিয়ে বান্দরবান। প্রতিটি উপজেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। আর এসব স্পটগুলো এখন পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত।
অরণ্যে ঘেরা পাহাড়ের সঙ্গে মারমা, মুরুং, ত্রিপুরা, বম, তংচঙ্গ্যা, চাকমা, চাক, খেয়াং, খুমী, লুসাই, কুকি, পাংখোসহ মোট ১১টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সরল জীবনযাপনের এ আবাসস্থল ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে সৌন্দর্য্যপিয়াসী পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু। ঈদকে কেন্দ্র করে তাই পর্যটকদের আনাগোনায় ফের মুখরিত হয়ে উঠেছে জেলার পর্যটন স্পটগুলো। জেলার পর্যটন কেন্দ্র নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক, শৈলপ্রপাত, নীলগীরি, চিম্বুক পাহাড়সহ প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের ভীড় বেড়েই চলেছে।
নাগরিক জীবনের ছকে বাঁধা সময় থেকে বেরিয়ে যে কেউ এখানে হারিয়ে যেতে পারেন নীলাচলের মেঘে ঢাকা পাহাড়ে, মেঘলা লেকের সচ্ছ জলে ভাসাতে পারেন ডিঙ্গি নৌকা অথবা ঘুরে আসতে পারেন চিম্বুক পাহাড়ে। আর পা ফেললেই নীলগীরির অপরুপ শোভা দেখতে পারবেন । শহরে যানজট ও কোলাহল মুক্ত পরিবেশে একটু স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে চান তাহলে অবশ্যই বেছে নিতে হবে বান্দরবানকে। অনেকে আবার জেলার পার্শবর্তী কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত দর্শন করে চলে আসছেন বান্দরবানের প্রাকৃতির রুপ দেখার জন্য। ঈদের ছুটিতে বান্দরবানের নীল আচলে এসে প্রথম দর্শনেই বিমোহিত এ জেলায় প্রথম বারের মতো আসা পর্যটকরা।
ঢাকা থেকে বান্দরবান বেড়াতে আসা আবু জাফর জানান, ঈদ মানেই আনন্দ, এই প্রথমবার বান্দরবান আসলাম আর এসে সবুজ পাহাড় আর প্রকৃতির কাছাকাছি অপার সৌন্দর্যরে পর্যটন স্পট দেখে বিমোহিত হলাম।
বান্দরবানের নীল আচল
বান্দরবানের নীল আচল
বান্দরবান হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় প্রায় ৫০ট হোটেল-মোটেল এক সপ্তাহের জন্য বুক হয়ে আছে, ঈদের দিন থেকেই জমে উঠা পর্যটন ব্যবসা এক সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বান্দরবানের নতুন আবাসিক হোটেল হিলটনের ম্যানেজার শুভ দাশ জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমরা পর্যটকদের আরো সেবার মান বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি । আমাদের সব রুমই বুকিং আমরা বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের আতিথেয়তায় কোন ক্রুটি রাখবো না।
বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে আমরা ভালো সার্ভিস দেওয়ার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি, আশা করি পর্যটকেরা বান্দরবানে আনন্দে ঈদ করে আবার সুস্থভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরত যেতে পারবে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, শীত ও গ্রীষ্ম বান্দরবানে পর্যটকের আগমনের হলে ও ঈদে তুলনামুলক পর্যটক বেশি হয়। আর এ ঈদে পর্যটকের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত প্রশাসন ও।
পর্যটকেরা যাতে বান্দরবানে এসে হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবদিকে নজর রাখা হচ্ছে এদিকে হোটেল মোটেলে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিতে না পারে ও খাবার হোটেলে যাতে কোন অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করতে না পারে তার জন্য ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে ।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।