হুইল চেয়ারে ফিরেছে শাহ আলমের নতুন জীবন

শাহ আলমের পা থেকেও নেই। অসাড়, অচল দুটি পা। মাত্র তিন বছর বয়সে টাইফয়েড কেড়ে নেয় তার স্বাভাবিক জীবন। অস্বাভাবিক জীবনযাপনে ক্ষুধা মিটাতে বেছে নেয় ভিক্ষাবৃত্তির। সেখানেও অসহনীয় কস্ট ও যন্ত্রনা। অচল পা নিয়ে কত আর এগিয়ে যাওয়া যায়। এভাবেই আশাহীন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পানে চেয়ে ত্রিশটি বছর কাটিয়ে দিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে সাথে নিয়ে।

শাহ আলমের এই যন্ত্রণাময় জীবনের ছবি দাগ কাটে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহানের। জেনেছিলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা কাপ্তাই উপজেলা যুবলীগের মহিলা সম্পাদিকা শম্পা আকতারের পোষ্টে। অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে সবসময় দাঁড়ানো ইউএনও মুনতাসির জাহান কথাও দেন, কিছু একটা করবেন। তার এই কথা দেওয়ার পাশে এসে দাঁড়ান মো.রবিউল হোসাইন জহির নামে এক মানবিক ব্যক্তি। তিনি একটি হুইল চেয়ার শাহ আলমের জন্য ব্যবস্থা করে ইউএনও মুনতাসির জাহানকে বুঝিয়ে দেন।

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকায় বাস করেন শারীরিক প্রতিবন্ধি মোঃ শাহ আলম। গত রবিবার ইউএনও মুনতাসির জাহান নিজে উপস্থিত হয়ে শাহ আলমকে হুইল চেয়ার বুঝিয়ে দেন এবং সার্বিক খবরাখবর নেন। হুইল চেয়ারে বসে শাহ আলম যেন নতুন জীবন পেয়েছেন।

খুশিতে শাহ আলম বলেন, নতুন জীবন পেলাম। এখন আর ভিক্ষা করতে কস্ট হবে না। যন্ত্রণা পাবে না শরীরও।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান জানান, মানুষের মধ্যে মানবতা ও সহমর্মিতা আছে বলেই মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। পরিপুর্ণ সামাজিক কাঠামো সকল শ্রেণীর মানুষ নিয়েই গঠিত। অসহায়, দু:স্থ, প্রতিবন্ধি এরাও এর অংশ। তিনি সমাজের দানশীল ব্যক্তিদেরকে আরো বেশি অসহায় ও দু:স্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুহুল আমিন, কাপ্তাই উপজেলা যুবলীগের মহিলা সম্পাদিকা শম্পা আকতার এবং কাপ্তাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য নাট্যজন আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।