১০ টাকায় চাল: রুমায় কার্ড প্রতি ২শ টাকা নেয়ার অভিযোগ

%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%89%e0%a6%b2বান্দরবানের রুমার পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদ(ইউপি) সদস্যদের বিরুদ্ধে হতদরিদ্রদেও কার্ড বিতরণ কালে জনপ্রতি দুইশত টাকা নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় ডিলারও জড়িত বলে জানা গেছে। ব্যাপক অনিয়ম ধামাচাপা দিতে ইউপি‘র সাধারণ সদস্য ও মহিলা সদস্যদের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টির অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের ঘোষিত হতদরিদ্র পরিবারের জন্য কেজি প্রতি ১০টাকায় চাল বিতরণ করতে রুমা উপজেলায় চারটি ইউনিয়নের দুই হাজার ১৬১জন হতদরিদ্র পরিবার তালিকাভূক্তি করা হয়। তার মধ্যে পাইন্দু ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৪৭৩জন।
৩নং ওয়ার্ডের চাইরাগ্র পাড়া কারবারি(পাড়া প্রধান) উচ্চ মারমাসহ আরো অনেকে অভিযোগ করে জানান, তাদের পাড়ার নয় জনের গ্রাহক কার্ডের বিপরীতে জনপ্রতি দুইশ টাকা করে ইউপি সদস্য মংসিংথোয়াই মারমাকে দিতে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যারা টাকা দিতে পারেনি, তারা গ্রাহক কার্ড পায়নি।
আরো জানা গেছে, টাকা দেয়ার পরও ইউপি সদস্য গ্রাহক কার্ড দেরিতে বিতরণ করায় গত সেপ্টেম্বর মাসে অনেকে ১০টাকায় চাল কেনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এখনো অনেক গ্রাহকের কার্ড এই মেম্বারের হাতে রয়েছে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক রতন কান্তি দাশ বলেন, হতদরিদ্রদের চাল বিতরণে অনিয়মের যারা জড়িত, সে যত প্রভাবশালী হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া উচিত ঠিক হবেনা।
এবিষয়ে পাইন্দু ইউপি ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মংসিংথোয়াই মারমা বলেন,কার্ড গ্রাহকের কাছে কোন টাকা নিজ হাতে নেয়নি। তবে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ছোমেচিং মারমা কাছ থেকে গ্রাহক কার্ড বাবদ দুই হাজার টাকা নিয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।
ইউপি সদস্য মংসিংথোয়াই মারমাকে টাকা দেয়া প্রসঙ্গে মহিলা সদস্য ছোমেচিং মারমা পাল্টা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, আমি কোনো গ্রাহকের কাছে কোনো টাকা নেয়নি, টাকা নেয়ার প্রশ্নই উঠেনা। তিনি আরো বলেন, মেম্বার নিজে টাকা নিয়ে আমাকে ফাসাঁচ্ছে।
এই ব্যাপারে পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, দুইশত টাকা নেয়ার কথা শুনার পর সব ইউপি সদস্যকে ফেরত দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে রেমাক্রী প্রাংসা ও গ্যালেঙ্গ্যা ইউনিয়নেরও ডিলার ও স্থানীয় ইউপি সদস্যদের যোগসাজশে নামে-বেনামে কার্ড বিতরণ ও চাল দেয়া-নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত পূর্বক বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
প্রসঙ্গত, হতদরিদ্রদের জন্য স¦ল্পমূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রম গত ২৮সেপ্টেম্বর শুরু হয়। খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালিত উপজেলার চারটি ইউনিয়নে দুই হাজার ১৬১জন হতদরিদ্র পরিবার কেজি প্রতি ১০টাকা হারে মাসিক ৩০কেজি করে চাল কেনার সুযোগ পাবার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. Omar Faruk বলেছেন

    কোন নিয়মে কার্ড বিতরন করছে তা সংশ্লিষ্ট সদস্য ছাড়া আর কেউ জানে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।