১৩ শ পরিবার নিয়ে বিপাকে পৌরসভা

বান্দরবান পৌরসভা
বন্যাপ্রবণ ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা ১ হাজার ৩০০ পরিবারের পুনর্বাসন নিয়ে সংকটে পড়েছে বান্দরবান পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। প্রতিবছর সামান্য বৃষ্টি হলে জলাভূমির তীরে বসবাসকারী পরিবারগুলোর বাসস্থান ডুবে যায়। আবার ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের বসবাসকারী পরিবারগুলো পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে পড়ে। ফলে বর্ষা এলেই এসব পরিবারের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খুলতে হয়। এসব পরিবারকে নিরাপদ স্থানে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

গত ১৩ জুনের পাহাড়ধসের পর বান্দরবান পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে পরিচালিত এক জরিপ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে প্রতিটি ওয়ার্ডের ঘরে ঘরে গিয়ে চালানো এ জরিপে দেখা গেছে, শহরের ৫টি ওয়ার্ডে বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে ৯৫৬টি পরিবার এবং ৩৮০টি পরিবার রয়েছে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে। ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু অংশ এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড সম্পূর্ণ জরিপে বন্যাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ ছাড়া ২, ৩, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে।

পৌরসভার মেয়র ইসলাম বেবী বলেন, বন্যা ও পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকার ১ হাজার ৩৩৬টি পরিবার পৌরসভার জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে এসব পরিবারকে উচ্ছেদও করা যাচ্ছে না, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রাখাও যাচ্ছে না। প্রতিবছর বর্ষা এলেই বসবাসকারী লোকজনের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খুলতে হচ্ছে। ত্রাণ ও খাবার দিতে হচ্ছে। পাহাড়ধস হলে উদ্ধার করতে হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত পাহাড়ধসে এসব এলাকায় ১১ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামসুল আলম বলেন, তাঁর ওয়ার্ড ম্যাক্সি খালের পাশে নিচু এলাকায় অবস্থিত। প্রতিবছর বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতে অধিকাংশ পরিবারের বাড়িঘর ডুবে যায়। এই ওয়ার্ডের প্রায় ৯০০ পরিবার বন্যার ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করে। তার মধ্যে ২৪২টি পরিবার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম বলেন, ম্যাক্সি খাল ও শঙ্খ নদের তীরবর্তী এই ওয়ার্ডে ৩০০ পরিবারের বাসাবাড়ি প্রতিবছর কয়েকবার তলিয়ে যায়। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজঘোনা এলাকায় এমন পরিবারের সংখ্যা ১০২ বলে জানান কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান। এ ছাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডে শঙ্খ নদের তীরে ১৩৯টি পরিবার এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উজানীপাড়া ও বরিশালপাড়ায় বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে ১৬৩টি পরিবার।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিলীপ বড়ুয়া বলেন, বন্যার ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলো শঙ্খ নদের তীরঘেঁষে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধভাবে বসবাস করছে। নদীর পানি সামান্য বাড়লে তাদের বাড়িঘর ডুবে যায় এবং তারা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে বাধ্য হয়।

গতকাল শুক্রবার সকালে শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আর্মিপাড়া ও ওয়াপদা ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ম্যাক্সি খাল দখল করে কয়েক শ ঘরবাড়ি নির্মিত হয়েছে। ওয়াপদা ব্রিজের নিচে খালের পানির প্রবাহঘেঁষে মাচাংঘরে বসবাস করেন আজমা বেগম। তিনি বলেন, ‘এক মাসের মধ্যে দুইবার আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। বর্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত আরও কতবার যেতে হবে জানি না।’

শ্মশান এলাকার বাসিন্দা জালাল উদ্দিন বলেন, কে কোথায় ঘরবাড়ি করছেন, দেখার কেউ নেই। এ জন্য যে যেভাবে পারেন খাল দখল ও মাটি ভরাট করে বাসাবাড়ি করছেন। এখন পানি সরে যাওয়ার জায়গা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেও ঘর ডুবে যায়।

বান্দরবান পৌরসভার সচিব তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শহরের ৪টি ওয়ার্ডে ৩৮০টি পরিবার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করে। এদের মধ্যে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা ও আশপাশে ৫০টি পরিবার, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৭০, ২ নম্বর ওয়ার্ড অক্ষ্যংঝিরি ও রোয়াংছড়ি স্টেশন এলাকায় ৩০ পরিবার এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুরটেকের কসাইপাড়া, কাশেমপাড়া, পানির টাংকি ও লাঙ্গিপাড়ায় ২৩০টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। পাহাড়ধসে ২০১৫ সালে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে চারজন, এ বছরের মে মাসে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একজন এবং গত ১৩ জুন ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

পৌর মেয়র ইসলাম বেবী বলেন, জলাভূমির আশপাশে বসবাসকারী পরিবারগুলো অপরিকল্পিতভাবে গৃহ নির্মাণ করছে বলেই বন্যার শিকার হচ্ছে। আর পাহাড়ে বসবাসকারীরাও সবকিছু জেনেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করেন। জল ও পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে থাকা এ পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত পুনর্বাসন অথবা নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা করা দরকার। কিন্তু পৌরসভার একার পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। সূত্র: প্রথমআলো

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. Iman Hossain বলেছেন

    জরিপে ৬ নং ওয়ার্ড আসেনি, বনরুপা পাড়া এলাকা পাহাড় ধসের সম্ভবনা সবচেয়ে বেশি, কিন্তু জরিপে তা উল্লেক করা হয়নি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।