৩ বছর ধরে বিদ্যুৎতের আলো নেই থানচির যে গ্রামে

সঞ্চালন লাইন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে খুঁটি

সঞ্চালন লাইন ও খুঁটি রয়েছে ৩ বছর ধরে কিন্তু বিদ্যুৎতের আলো মেলেনি বান্দরবানে থানচি উপজেলার দুই ইউনিয়নের তিন গ্রামের দুই শতাধিক বাসিন্দাদের ঘরে। ফলে গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎতায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনাকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বাধাগ্রস্ত করছেন বলে মনে করছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন ও খুঁটি থাকার পরও জেলার থানচি উপজেলা ক্রংক্ষ্যং পাড়া ৮৮ পরিবার, ছাংদাক পাড়া ৬৫ পরিবার, আপ্রুমং পাড়ার ৪৫ পরিবার এবং টিমং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮০ জন শিক্ষার্থীদের বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত রয়েছে।

থানচির আপ্রুমং পাড়া নিবাসী সদর ইউপি মেম্বার চাইসিংউ মারমা বলেন, পাড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮০ জন শিক্ষার্থী অনেক কষ্ট করে বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে, সোলার প্যানেল থাকলেও ফ্যান চালাতে পারেনা।

আরো জানা যায়, বান্দরবানের সাংসদ ও পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর (উশৈসিং) এমপি গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎতায়নে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা বাস্তবায়নে থানচি উপজেলাতে বিদ্যুৎতের আলো জ্বালাইতে ২০১৬/১৭ অর্থসালে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেবলভ ম্যান বোর্ড (বিপিডিবি) অর্থায়নের জেলা সদর হতে থানচি উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে খুঁটি ও সঞ্চালণ লাইন স্থাপন করেন।

থানচির ছাংদাক পাড়া নিবাসী নুমংপ্রু মারমা বলেন, বিদ্যুৎতের আলো জ্বলানোর জন্য আমরা দীর্ঘ দুই তিন যুগ ধরে সরকারকে আবেদন নিবেদন করে আসছি কিন্তু খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন করার পরও বিদ্যুৎ আলো দেখতে পারছি না।

আরো জানা গেছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে বলিপাড়া বাজার, বলিপাড়া, দাকছৈই পাড়া ,হাইলমারা পাড়া, বাগান পাড়া, কমলা বাগান পাড়া,থানচি সদরের বাজার ,থানচি হেডম্যান পাড়া, মরিয়ম পাড়া,সাধু যোসেফ মিশন, হাসপাতাল, বয়ক হেডম্যান পাড়া, টিএন্ডটি পাড়া বিদ্যুৎতের আওতায় আসায় থানচি উপজেলার ৭শত গ্রাহক বিদ্যুৎতের সুবিধা পেয়েছে ।

ক্রংক্ষ্যং পাড়া নিবাসী সাবেক ইউপি মেম্বার মংখ্যউ মারমা ও মংচ মারমা বলেন, আমাদের পাড়ায় বিদ্যুৎতের সঞ্চালন লাইন ও খুঁটি বসানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ঐ সময় ২০/৩০ হাজার টাকা প্রদান করেছিলাম,সবই ঠিকঠাক দিয়েছে কিন্তু বিদ্যুৎতের আলো পাইনি।

এদিকে বলিপাড়া ইউনিয়নের ক্রংক্ষ্যং পাড়া,থানচি সদর ইউনিয়নের ছাংদাক পাড়া, আপ্রুমং পাড়ায় খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন সব করা হয়েছে কিন্তু গত তিন বছরে বিদ্যুৎতের আলো দেখতে পায়নি এসব এলাকার স্থানীয়রা। ফলে তাদের বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে বলে মনে করছে গ্রামবাসীরা।

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্য মনি ত্রিপুরা বলেন,শিক্ষার্থীরা ক্লাস রুমে আমাকে অনেক সময় প্রশ্ন করে বিদ্যুৎতের সঞ্চালন লাইন আছে, খুঁটিও আছে, স্যার কবে বিদ্যুৎতের সুবিধা পাব,আমি এর উত্তর দিতে পারিনা।

এই ব্যাপারে থানচির বলিপাড়া বিদ্যুৎ সাব অফিসের লাইন সঞ্চালনে দায়িত্বে থাকা দিলিপ দাশ জানান, তিন গ্রামে তিনটা ট্রান্সফরমার দিলে বিদ্যুৎতের আলো ও মিটারের আবেদন করতে পারে কিন্তু অফিসার না দিলে আমরা কি করব।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।