৫৪ বছর ধরে সদর থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে রেঞ্জ কর্মকর্তা
অফিসে বসে বেতন নেন তারা
জোত পারমিটের অনুকুলে অনুমোদন, পরিদর্শন, গাছ কাটা, গাছ মজুদ,পরিবহন’সহ নানা বাস্তবায়ন কাজের বান্দরবান জেলা সদর থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ করছেন বান্দরবানের থানচি উপজেলার ৩ রেজ্ঞের রেঞ্জ কর্মকর্তারা।
স্বাধীনতা ৫৪ বছর ধরে জেলা সদরের থেকে বেতন, ভাতা, আনুসাংঙ্গিক উত্তোলন করে আসছে। গাছ ব্যবসায়ীদের নিয়োগ প্রাপ্ত কেরানি হয়েছে হেমারিং করার, গাছ কাটার, গাছের গৌড়ায় নংম্বার প্লেট বসানো, পরিবহনের জন্য গাড়িতে লোডিং, আনলোডিং করে পরিবহনের দায়িত্ব। ফলে ব্যবসায়ীদের ইচ্ছে মাফিক বৈধ-অবৈধ পন্থায় কাঠ পরিবহনের সুযোগ পাচ্ছে। এমন চিত্র উঠে আসছে।
আজ সোমবার ২১ জুলাই দুপুরে ৩৬২ নং থানচি মৌজার অংশ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীনিবাসের পাশে ভোলা ট ১১-০০৮৩ ও চট্টমেট্রো শ ১১-৩২১৫ নংম্বারে ২ টি ট্রাক জোত পারমিটের অনুকুলে সেগুন কাঠ বান্দরবানের নিয়ে যাওয়ার সময় এ চিত্র মিলে।
ট্রাকের হেল্পার হানিফ জানান, কেরানি আমান উল্লাহ গাড়িতে কাঠ লোড করছে, শ্রমিক ৮ জন ছিল, বন বিভাগের কোন লোক ছিল না। আমাদের ড্রাইভার বান্দরবান থেকে আসলে নিয়ে যাবো।
ড্রাইভার খোকন জানান, বন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারী ছাড়া দীর্ঘ বছর ধরে আমরা কাঠ পরিবহন করছি কোন অসুবিধাতো হয়নি, আজকের কোন অসুবিধা দেখছিনা।

অপর গাড়ি ড্রাইভার আরফাত বলেন, আমরা ৩০ হতে ৪০ বছর যাবৎ ফরেস্টার ছাড়া কাঠ লোডিং আনলোডিং করে পরিবহন করেছি।
আমান উল্লাহ বলেন, আমরা সব জায়গা ম্যানেজ করে চলি কাউকে বাদ দিইনা। আমি রেজ্ঞার ও ডিএফও স্যারকে আপনার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বান্দরবান পৌছলে বলবো।
জানা গেছে, থানচি উপজেলার বন বিভাগের বন সংরক্ষনের ৩টি রেঞ্জ এর কার্যালয় রয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী হতে বান্দরবান বন বিভাগের নিয়ন্ত্রনে থানচি, তিন্দু, রেমাক্রী, মদক এবং সিংগফা ৫টি মৌজা নিয়ে থানচি রেঞ্জ কার্যালয়টি থানচি- আলিকদম সড়কের জিরো পয়েন্টে অবস্থান। সেকদু ও থাইক্ষ্যং ২ মৌজা নিয়ে সেকদু রেঞ্জ কার্যালয়টি বলিপাড়া বিজিবি গেইট সামনে অবস্থান।
পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগের কোয়াইক্ষ্যং, পর্দা ও মিবক্যা ৩টি মৌজা নিয়ে মিবক্যা রেঞ্জ, আমতলী পাড়া মিবক্যা রেঞ্জ অফিসারের কার্যালয় রয়েছে।
এই বিষয়ে থানচি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম টগর বলেন, আমাকে থানচি রেঞ্জ ও বেতছড়া রেঞ্জ দায়িত্ব দিয়েছে, তাই বর্তমানের বান্দরবান সদরে বেতছড়া রেঞ্জের জরুরী কাজে ব্যস্ত আছি, মাঝে মাঝে থানচি যায়।
মিবক্যা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল রোপ ইসলাম তৌহিন বলেন, আমাদের একটা ফরেস্ট গার্ড রয়েছে রাহুল কাদের, তিনি একজন প্রতিবন্ধি। আমি ও একা জরুরী কাজ থাকায় বান্দরবান সদর থেকে যাওযার সম্ভব হচ্ছেনা। তাই নতুন জোত পরমিট অনুমোদন দেয়া হয়নি। পুরোনো জোতের পরিবহনের অতিরিক্ত সময় অনুমোদন করে হাজি নাজিমের দুই গাড়ি সেগুন কাঠ থানচি থেকে বান্দরবান পর্যন্ত নিয়ে আসার তারই কেরানি আমান উল্লাহ হাতে সম্পুর্ন কাগজ বুঝিয়ে দিয়েছি। আপনার সাথে পরবর্তীতে সময় সুযোগ হলে স্বাক্ষাতে কথা বলবো।



