৬৮ দিন পর সচল হলো রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক

রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে নবনির্মিত বেইলি সেতু চালুর পর যান চলাচল
রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ৬৮ দিন পর সোমবার সকালে রাঙামাটির সাপছড়ির শালবাগান এলাকায় সড়কের বিধ্বস্ত অংশের পাশে নবনির্মিত বেইলি সেতু চালুর মাধ্যমে ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য সচল করা হলো রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক। সোমবার সকাল ১১ টায় বেইলী ব্রীজ চালুর সময় রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের বেইলী সেতু নির্মানের দায়িত্বে থাকা উপ সহকারী প্রকৌশলী আবু মোছা জানান, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা বেইলী ব্রীজটি নির্মান করেছি। সেতুটি খুবই মজবুতভাবে করা হয়েছে যাতে করে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারে।
এদিকে, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের বাস চালক কুদ্দুস বলেন, ব্রীজটি চালু হওয়ার আমরা খুবই খুশি, অনেকদিন পর আমরা চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সরাসরি বাস চালাতে পারছি। আমাদের একটি দাবী থাকবে সড়কের অনেক জায়গায় বেশকিছু ভাঙ্গা রয়েছে সেগুলো যদি ঠিক করা হয় তাহলে আমরা নিরাপদে গাড়ী চলাচল করতে পারবে।
অপরদিকে, বাস যাত্রী আমেনা বেগম বলেন, আগে আমাদের চট্টগ্রাম-রাঙামাটি যাওয়া আসা করতে খুবই কষ্ট করতে হতো এখন পুরোপুরি চালু হওয়ায় আমাদের কষ্ট লাঘব হলো।
ব্যবসায়ী শফিউল আযম বলেন, পাহাড় ধসের ফলে বিগত দুইমাস রাঙামাটিবাসী যে কষ্ট করে যাতায়াত করেছি তার থেকে আমরা মুক্তি পেতে যাচ্ছি। আমি একজন ব্যবসায়ি হিসেবে বলতে চায় এই ব্রীজের কারনে আমরা চট্টগ্রাম ঢাকা থেকে আমাদের মালামাল আনতে পারি নাই। কষ্ট করে আনতে গেলেও দ্বিগুন ভাড়া গুনতে হয়েছে। রাঙামাটি পৌর টোল ইজারাদার মো: আবু তৈয়ব বলেন, বিগত দুইমাস ধসে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যবসা বন্ধ ছিল। অতি দ্রুত সময়ের ধ্যে যে ব্রীজটি চালু করেছে তার জন্য আমি সড়ক বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই।
রাঙামাটি ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নীতি বিকাশ দত্ত বলেন, আজকে থেকে এখানে যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য গাড়ী চলাচল করবে। আমরা সকাল ৮ থেকে রাত আটটা পর্যন্ত গাড়ী চলাচল নিয়ন্ত্রন করবো।
রাঙামাটি সড়ক বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ১৩ জুন পাহাড় ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরমধ্যে সড়কের সদর উপজেলার সাপছড়ির শালবনে ১০০ মিটার রাস্তা ধসে ১০০ ফুট খাদে তলিয়ে বিলীন হয়ে যায়। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সড়কটির যোগাযোগ। বিধ্বস্ত অংশে ভরাট ও মেরামত করে ঘটনার ৮ দিন পর ২১ জুন সড়ক দিয়ে হালকা যান চলাচল শুরু হয়।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদ হোসেন বলেন, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ির শালবাগান এলাকায় ভেঙ্গে যাওয়া সড়কে বেইলী ব্রীজ ভারী যানবাহনের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। এখন থেকে সকল ধরনের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
এদিকে, রাঙামাটির সাপছড়ি ইউনিয়নের শালবাগান এলাকার রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য বেইলী ব্রীজ নির্মানের কাজ এক মাস দশ দিনের মাথায় সমাপ্ত করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এতে ব্যয় হয়েছে ২কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সোমবার অনুষ্ঠানিকভাবে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বেলী ব্রীজের ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের উন্মুক্ত করা হয়। তিনি আরো জানান, গত ১৩ জুন পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙামাটি জেলায় বিভিন্ন সড়কে ১৩৯টি স্থানে ভেঙ্গে গেছে। সেগুলো ইতোমধ্যে জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের জন্য কাজ চলছে। এ জন্য ১৪কোটি ১লাখ টাকা মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এসময় উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমান, উপ সহকারী প্রকৌশলী আবু মোছাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন ভারী বর্ষনে পাহাড় ধসে রাঙামাটি সদর,জুরাছড়ি,কাপ্তাই,কাউখালী ও বিলাইছড়ি এলাকায় দুই সেনা কর্মকর্তা ও তিন সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাঙামাটি শহরের ভেদেভদী, যুব উন্নয়ন বোর্ড শিমুলতলী,রুপনগর, নতুন পাড়া, মুসলিম পাড়া,মোনঘর এলাকা,ওমদা মিয়া হিলসহ বিভিন্ন এলাকায় লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হন। ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ৩ হাজার ২শ জন নারী-পুরুষ ও শিশু আশ্রয় নিয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হওয়ায় বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা কিছু সংখ্যক পরিবার নিজ নিজ বাড়ী ঘরে ফিরে যাওয়ায় ৬টি আশ্রয় কেন্দ্র করা হয়। বর্তমানে এসব আশ্রয় কেন্দ্রে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১৩ শ ২৬ জন আশ্রয়ে রয়েছে। এসব আশ্রিত লোকজনদের মাঝে দুবেলা খাবারসহ অনান্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।