বিটু চাকমা’র জন্য হাত বাড়িয়ে দিন

২টি কিডনী নষ্ট হয়ে অর্থাভাবে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে বিটু চাকমা
“একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি”- না, এ কথাটি আমার স্বরচিত নয়। এ গানের প্রথম কলিটি ধার করেছিলাম জৈনক এক মহান গীতিকার হতে। ধার করার জন্য আমি সম্মানিত গীতিকার ও সুরকার উভয়ের কাছে বিনয়ের সাথে মার্জনা প্রার্থী । আমরা জানি যে, বাংলাদেশ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ১৯৭১ সালে দেশ মাতার অমিতময় সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এবং দেশের আপামর জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে এ কালজয়ী গানটি প্রাণ সঞ্জিবনীর মতো কাজ করেছিল সেদিন। এ গানে উজ্জীবিত হয়ে বাংলার মানুষ মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে হাঁসতে হাঁসতে নিজের অমূল্য জীবন দেশের তরে উৎসর্গ করেছিলো। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ী হয়ে ঘরে ফিরেছিল বাংলার মানুষ। আজ আমাদের দেশ স্বাধীন এবং আমরা এ স্বাধীন দেশের নাগরিক। বীরের দেশ বাংলাদেশ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ, পূজা-পার্বণের দেশ বাংলাদেশ সবিই মিলেই শান্তি, মানবতা, সহযোগিতা ও সহভাগীতার দেশ আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ যা বিশ্বের কোথাও অমন দৃষ্টান্ত নেই । তাই তো কবি, গীতিকার ও নিসর্গবিদ শ্রদ্ধেয় দ্বিজেন্দ্র লাল রায় লিখেছেন-
ধনে ধান্যে পুষ্পভরা, আমাদেরই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক, সকল দেশের সেরা
সেই যে আমার জন্মভূমি,
সেই যে স্বপ্ন দিয়ে তৈরী সেই দেশ,
স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।
আমার তো মনে হয় এসব মহান গীতিকারগণ শুধু মাত্র নিসর্গকে নিয়ে অমন গান রচনা করেননি। তাঁরা নিসর্গের সাথে মিলিয়ে নিয়েছেন এ দেশের মানুষের কোমল অন্তরাত্মকেও।এ দেশের মানুষের সবচেয়ে বড়গুণ হলো একে অপরের সুখে যেমনি আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন, তেমনিভাবে অপরের দুঃখে কেঁদে ও উঠেন তাঁরা। সেই কারণেই তো আমরা দেখেছি-আজ পর্যন্ত কোন মানুষ যখনি কোন বড় বিপদের সম্মুখীন হয়েছে তখনই সে বিপদগ্রস্থ মানুষের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে এ দেশের মানুষ। এমনকি এখানেও দেখেছি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিশান ও দীঘিনালার তিথী টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিন গুণছিল তখনই এগিয়ে এসেছিল একদল আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ। তাঁরা স্বপ্রণোদিত হয়ে চিকিৎসা তহবিল গঠণ করেছেন। সাহায্যের জন্য আবেদন নিবেদন করেছেন মানবতাবাদী মানুষের কাছে। এবং কি নেচে গেয়ে ফিল্মি শো করেও সাহায্যে টাকা সংগ্রহ করেছিল তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা। । তরুণদের এসব মানবিক কর্মকান্ড দেখে অভিভূত হয়ে পড়েছিল এ অঞ্চলের আপামর জনগণ সেই দিন । সেই যা হোক, আমি যার কথা বলতে চাইছি- সে ও এক হতভাগা তরুণ শিক্ষক তথা মানুষ গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা-বিটু চাকমা। যে তরুণটি বেড়ে উঠেছে আজন্ম স্বপ্নদ্রষ্টা হয়ে এক নিরীহ জুমচাষী পরিবারে। জুমের লাঙেলে লাঙেলে ( শিড়ায় শিড়ায়/ পথে পথে) হেঁটে হেঁটে যেতে যেতে স্বপ্ন দেখেছিল পড়ালেখা শিখে জুমিয়া শিশুদের বিদ্যা শিক্ষা দিয়ে আলোকিত করে তুলবে বলে। তার সে লালিত স্বপ্ন এক ধাপ পূরণ করে আজ সে যেমনি সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়ের শিক্ষক তেমনিভাবে ২টি কিডনী নষ্ট হয়ে অর্থাভাবে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে ঢাকার মিরপুরস্থ পাইকপাড়ার ( আনসার ক্যাম্পের পাশে) এক ভাড়া করা বাসায়। যে রোগীর উন্নত মানের হাসপাতালে থেকে নিবিড় পরিচর্যায় থাকার কথা সেই রোগী মায়ের কোলে মাথা রেখে যেনতেনভাবে ডায়েলিসিস করে দিন পার করছে মাত্র। আসুন, আমরা
আবারো একবার এক হই মানতবতার কল্যাণে। একবার মুখ ফিরিয়ে দেখি এ রোগীর দিকে এবং সমস্বরে বলি -একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি———-। এ ফুল প্রকৃতির কাননের ফুল নয়, এ ফুল মানবকুলের আলোকিত সন্তান। স্রষ্টার সর্বসেরা জীব। আসুন, তার অর্থাভাব মিটিয়ে তার সুচিৎসার ব্যবস্থা করি। সাধ্যমতো দান করি তার জীবন রক্ষায়। যেন খালি না হয় তার চির
দুঃখিনী মায়ের বুক। তবে আশার কথা এই যে, পানছড়ির তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি সুমঙ্গল চাকমা বুং, দীঘিনালার সংস্কৃতি কর্মী বিকেন চাকমা, ঢাকার সুহ্নদ ও মুক্তমনা মানুষ জুম্ম রাজীব চাকমা, কৌশিক মিত্র চাকমা এবং অনন্ত বিকাশ ধামাই, পবিত্র বর্মণ (সখিপুর, টাঙ্গাইল ) কাজ করে যাচ্ছেন এ রোগীর সেবায়। তারা তাদের সাধ্যমতো সেবা দিবেন এ আশা প্রাপ্তিতেই তার পরিবার আশার আলো দেখতে পেয়েছে এখন। পাশাপাশি খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের শিক্ষক সমিতির সুধি নেতৃবৃন্দ এগিয়ে আসবেন সেই আশায় বুক বেঁধে আছে রোগীর মা বাবা. ভাই-বোন ও আত্নীয় স্বজন। আমরা ও আশা করবো শিক্ষক সমিতির সুধি নেতৃবৃন্দ তাদেঁর প্রিয় একজনকে বাঁচাতে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। এবং নিশ্চয় তাঁরাও বলবেন বিটু তুমি একা নও, আমরাও আছি তোমার সঙ্গে।

রোগীর পরিচয়-
বিটু চাকমা (অবিবাহিত), পিতা-কিংকর চাকমা, মাতা-নিতুনী চাকমা, বাবুরো পাড়া, পানছড়ি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা। আর্থিক সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা-বিটু চাকমা চিকিৎসা তহবিল, সোণালী ব্যাংক, পানছড়ি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা-১০০০০০৭৮২, বিকাশ নং-০১৫৫৭-০৮৭৫৮৪, সরাসরি যোগাযোগ-০১৫৫৯-০৭৫৭৭১, ০১৫৫৩-৬০৭৫৭৬, রোগীর ছোট ভাই-০১৮৬৭-৯১৬৩০৭ ( কারোর আগ্রহ থাকলে এবং রোগীকে সরাসরি দেখার ইচ্ছে হলে এ নম্বরে যোগাযোগ করুন করা যেতে পারে)
**অনুগ্রহ করে এ পোষ্টটি শেয়ার/ ট্যাগ করার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ করা হলো**

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।