বিদ্যালয় ফাঁকি দিয়ে এমপি’র অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক

রাঙামাটির লংগদুতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুল ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. ওমর ফারুক উপজেলার মাইনীমূখ ইউনিয়নের গাঁথাছড়া আদর্শগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল কবির জানান, সকাল থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসেননি। তবে প্রধান শিক্ষক ফোনে জানিয়েছেন তিনি আসবেন। এরপর দুপুর বারোটা চব্বিশ মিনিটে শিক্ষক সোহেল কবির প্রতিবেদককে ফোন করে জানান, প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে লংগদু উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ও পাশ্ববর্তী ইসলামাবাদ গ্রামে দুটি অনুষ্ঠানেই প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুককে দেখা গেছে। ওই দুটি অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার।

এসব অনুষ্ঠানে শিক্ষক ওমর ফারুক পাঞ্জাবী ও কালো রংয়ের কোট পরে অতিথিদের পেছনের সারিতে বসে ছিলেন। ইসলামাবাদ গ্রামের স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর পাশের চেয়ারে ছিলেন শিক্ষক ওমর ফারুক। এসময় তাকে কখনো বসে আবার কখনো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

কভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল কলেজ খুলে দিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিনের বিরতীর পর নতুন উদ্যোমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের পদচারনায় মুখর হয়ে উঠেছে। এমন সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সহযোগিতা না করে একজন প্রধান শিক্ষকের স্কুল ফাঁকি দিয়ে অন্য যে কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া কতটুকু যৌক্তিক তা জানতে কথা হয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে।

শিক্ষা কর্মকর্তা ইমাম হোসেন জানান,আমার জানা মতে প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক কোনো ছুটি নেয়নি। ছুটি ছাড়াই তিনি এমপি মহোদয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছেন। তবে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি আরো অন্য কয়েকটি কাজের সাথে জড়িত বলে শুনেছি। আমরা আমাদের পক্ষ হতে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিবো এবং মনিটরিং আরো জোরদার করার চেষ্টা করবো।

এ বিষয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি সুনীতি চাকমা বলেন, আমরা সকালে সমিতির পক্ষ হতে এমপি মহোদয় ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয়ের সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাত করেছি। এসময় প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক আমাদের সাথেই ছিলেন। তবে এরপর আমরা যে যার স্কুলে চলে যাই। পরে প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক অন্য কোনো অনুষ্ঠানে গেছেন কিনা আমার জানা নাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুকের মুঠোফোনের দুটি নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।