অপরুপ নাইক্ষ্যংছড়ি

বান্দরবান পার্বত্য জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ি। কক্সবাজার- চট্টগ্রাম সড়কে রামু রাবার বাগান হয়ে মাত্র ১২ কিঃমিঃ এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে মাত্র ৩০ কিঃ মিঃ এর মধ্যে উপজেলারটির অবস্থান। উপজেলাটির আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, যেন সারি সারি পাহাড় আর সবুজের কার্পেট যেন আপনাকে আমন্ত্রন জানাচ্ছে।

উপবন লেক,নাইক্ষ্যংছড়ি
উপবন লেক,নাইক্ষ্যংছড়ি
নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন :
ঈদের ছুটিতে পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ির উপবন শৈলশোভা পর্যটন লেকে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় জমে উঠেছে। সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গের ঢালে সৃষ্ট দুটি কৃত্রিম হ্রদ, দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু, পাহাড়ি মনোরম পরিবেশ, নৌকায় করে পাহাড়ি ঝিরিতে অনন্য পরিবেশ, আছে সু উচ্চ বৃক্ষের ওয়াচ টাওয়ার, বসার জন্য বাহারি পাহাড়ি সাজে মাচাং ঘর, লেকের পাড়ে রাত্রিবাস সে অন্যরকম আলোক সজ্জায় পাখির কলকাকলি উপভোগ করতে ঈদের দিন থেকে এখানে ছিল পর্যটকদের আনাগোনায়। জেলা পরিষদের সরকারি রেস্ট হাউজ, যেখানে রয়েছে পর্যটকদের রাতযাপনের সুযোগ। পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি পর্যটকের ভাল মন্দ দেখাশুনা নিজেই করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম শাহেদুল ইসলাম। নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ের মাঝখানে ঝুলন্ত সেতু ও মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ প্রেমী মানুষ আসে। তারা লেকের স্বচ্ছ জলধারায় বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করে। তাছাড়া শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে শিশু পার্ক।
গয়াল প্রজনন কেন্দ্র,নাইক্ষ্যংছড়ি
গয়াল প্রজনন কেন্দ্র,নাইক্ষ্যংছড়ি
প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট :
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গয়াল প্রজনন কেন্দ্র, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়ে গবেষণার জন্য নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বিছামারা এলাকায় ১৬২ একর জমির ওপর স্থাপিত হয়েছিল প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট। বর্তমানে এ ইনস্টিটিউটে প্রাণী নিয়ে গবেষণার কাজে নিয়োজিত আছেন প্রতিষ্ঠানের ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারি। এখানে ছয়টি প্রজাতি ভেদে গয়াল, শতাধিক হরিণ, বিশাল ভেড়া পাল, ১৪৮টি ছাগল, ৪৫টি বন্য ও বিভিন্ন বন মুরগি যা আপনার দৃষ্টি কেড়ে নিবে। এসব পাহাড়ী পশু-প্রাণীকে সরাসরি দেখার জন্য পর্যটকরা নাইক্ষ্যংছড়িতে আসছেন।
কুমির প্রজনন কেন্দ্র,নাইক্ষ্যংছড়ি
কুমির প্রজনন কেন্দ্র,নাইক্ষ্যংছড়ি
কুমির প্রজনন কেন্দ্র :
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ লোনা পানির কুমির প্রজনন কেন্দ্রটি প্রতিষ্টা করেছে আকিজ গ্রুপ, উপজেলার দুর্গম ঘুমধুম ইউনিয়নের পাহাড়ে ২৫ একর ভূমিতে ২০১০ সালের শেষের দিকে মালয়েশিয়া থেকে অর্ধ শতাধিক লোনা পানির কুমির দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠা কুমির প্রজননকেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। কুমিরের দৌড়ঝাঁপ দেখতে সেখানে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটকরা। এই দুর্গম পাহাড়ের ওপর পানির কুমিরের দৌড়ঝাঁপ দেখে মনটা জুড়িয়ে যায় পর্যটকদের। খামারটি আসলেই অত্যন্ত মন-মুগ্ধকর।
চা বাগান,নাইক্ষ্যংছড়ি
চা বাগান,নাইক্ষ্যংছড়ি
সোসং ও কোয়াসং ঝর্ণা :
উপজেলার সদর ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়িতে অবস্থিত সোসং ও কোয়াসং ঝর্ণা। ঝর্না দুটির মধ্যে একটির উচ্চতা প্রায় ১৫০ ফুট ও অপরটি ২০ ফুট। যা দেখে আপনি চোখ জুড়িয়ে নিতে পারেন অনাসয়ে। উপজেলার হর্টিকালচার সেন্টার, বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ রাবার বাগান, এবং সীমান্ত নিকটবর্তী আশারতলী এলাকায় গড়ে উঠেছে চা-বাগান,যা বান্দরবান এর সিলেট হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।