আমি ভীষণ স্বপ্নবাজ মানুষ, স্বপ্ন ছাড়তে নারাজ

ইদানীং চোখ বুজে উপন্যাসের নায়ক-নায়িকার কথা আর ভাবছি না। আজকাল ভাবছি, যদি নিজের জীবদ্দশায় বাংলাদেশের সকল দরিদ্র মানুষগুলোকে অন্যান্য উন্নত বিশ্বের মানুষের মতোই ধনী দেখে যেতে পারতাম। যদি দেখে যেতে পারতাম যে, সামান্য বিরিয়ানি বা দু’চারশো টাকার প্রলোভনে পড়ে তারা ঠগি-ভোগী নেতাদের পাল্লায় পড়ছেন না।

যদি এমন হতো যে, নেতা হওয়ার লোভে নিজের নামের আগে হাজী বা আলহাজ্ব নাম dreamলাগিয়েও মাথা কেনা যাচ্ছে না আর কারোই। যদি এমন দেখে যেতে পারতাম যে, সামান্য একটা যাকাতের কাপড়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে প্রতিবছর শতশত মানুষকে পদতলে পিষ্ট হয়ে মারা না যেতে, রিলিফের জন্য হাহাকার না করতে।… হয়তো আমার জীবদ্দশায় এমন কোনো কিছুই দেখে যেতে পারবো না, তবুও এসব ভাবতেই ভালো লাগছে আজকাল। আসলে আমি ভীষণ স্বপ্নবাজ মানুষ তো, তাই হয়তো কোনোভাবেই স্বপ্ন ছাড়তে নারাজ।
আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার স্বপ্নের কিছু অদ্ভুত মিল আছে। তা হবার একটা বিশেষ কারণও আছে বোধকরি। বাবার মুখে শুনেছি, আশির দশকে তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনা সে সময় মাত্রই দেশে ফিরেছেন। আমি তখন খুব ছোট। দাদার কোলে চড়ে কোনো এক নেতার বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে উনি নাকি আমাকে কোলে টেনে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বসে ছিলেন। দেখতে কিউটি নাদুস-নুদুস ছিলাম, হয়তো সে কারণেই খুব আদর পেয়েছিলাম তার। আর সেখান থেকেই আমার মধ্যে তার কাছ থেকে কিছু স্বপ্ন সংক্রামিত হয়ে গিয়েছিল হয়তো বহু আগেই।
যাই হোক, এবার আমাদের স্বপ্নের মিলের কথা বলি। আমরা দু’জনেই চাই আমাদের দেশের মানুষ দারিদ্রমুক্ত হোক। সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আর সে লক্ষ্যে উনি কাজও করে যাচ্ছেন খুব। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? সমস্যা আছে। উনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে একটা সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান। আর যারা তাকে প্রধান বানিয়েছেন- তারাই হচ্ছেন ওই সকল হাজার হাজার ঠগি-ভোগী নেতা। যারা কোনো অবস্থাতেই চাইবেন না যে এ দেশের সাধারণ মানুষ ধনী হোক, কুসংস্কারমুক্ত হোক, সচেতন হোক। তাতে করে যে তাদের রাজনীতি বা ধর্ম ব্যবসা সবই লোকসানের খাতায় চলে যায়!
কাজেই, আমাদের দু’জনের স্বপ্নের একটা জায়গাতে দারুণ মিল থাকার পরও আমাকে আমার মতো, আর তাকে, তার মতো করেই ভাবতে হচ্ছে। সূত্র-পরিবর্তন ডটকম।

আরও পড়ুন
Loading...