একটি ব্রীজের অভাবে লামা-নাইক্ষ্যংছড়ির ১০ গ্রামের মানুষের সীমাহীন দূর্ভোগ


ব্রিজ না থাকায় লামা-নাইক্ষ্যংছড়ির ওপর দিয়ে বয়ে চলা খুটাখালী খালের কাগজিখোলা পয়েন্ট পায়ে হেঁটে পার হচ্ছে স্থানীয়রা
খুটাখালী খালের কাগজিখোলা পয়েন্টের ওপর একটি ব্রিজের অভাবে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ও পাশের ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। অচল হয়ে পড়েছে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা। এছাড়া ব্রিজ না থাকায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী, ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বাণিজ্য, কৃষকদের ক্ষেত খামার, মানুষের জীবন মান উন্নয়নসহ সাংস্কৃতিক দিক থেকে অনেক পিঁছিয়ে রয়েছে ওই এলাকাটি। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সর্ব উত্তরে ও লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সর্ব দক্ষিণে পুলিশ ফাঁড়ী সংলগ্ন এলাকায় খালটির অবস্থান। ওই পয়েন্টে একটি ব্রিজ নির্মাণে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানায়, বাইশারী ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন এলাকায় দু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দু’টি মাদ্রাসা, একটি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাজার একর রাবার বাগান ছাড়াও ফলদ, বনজ এবং আবাদী কৃষি জমি রয়েছে। এছাড়া রয়েছে জনসাধারণের নিরাপত্তা জন্য একটি পুলিশ ফাঁড়ী, মসজিদ, মক্তব ও বৌদ্ধ বিহারও। কিন্তু খুটাখালী খালের কাগজিখোলা পয়েন্টে ওপর নেই একটি ব্রিজ। শুষ্ক মৌসুমে কোন মতে এপার ওপার যাতায়াত করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে তা মোটেও সম্ভব হয়না। এতে বাইশারি ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলম সাংবাদিকদের জানায়, কাগজি খোলা পুলিশ ফাড়ী সংলগ্ন খালের উপর ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বাণিজ্য এবং সহজে কাগজি খোলা বাজারে মালামাল আনা নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও স্কুল মাদ্রাসা পড়ূয়া ছাত্র/ছাত্রীরা বর্ষা কালে সহজে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। এই একটি মাত্র ব্রিজ নির্মাণ হলে এলাকার কৃষকদের কৃষিপণ্য শাক-সবজি রবি শষ্য রাবার বাগানের উৎপাদিত রাবার সামগ্রি গাড়িতে করে আনা নেওয়া অতি সহজের পাশাপাশি সরকারেরও প্রতি মাসে আয় হবে লক্ষ লক্ষ টাকা। তিনি আরও বলেন, খুটাখালী খালের উপর ব্রিজটি নির্মাণের জন্য ইতি মধ্যে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অচিরেই ব্রিজটি নির্মাণের জন্য উপজেলা সমন্নয় সভায় উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহাজাহানসহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একটি মাত্র ব্রিজের অভাবে পুরো এলাকাটি আজ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানুষ আদিম যুগের মতো বসবাস করে আসছে স্থানীয় অধিবাসিরা। কাগজি খোলা পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ মো. মনির জানান, ব্রিজটি নির্মাণ হলে দ্রুত মানুষের সেবা ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
খুটাখালী খালের কাগজিখোলা পয়েন্টে ব্রিজ না থাকায় দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদার বলেন, একটি মাত্র ব্রিজ নিমার্ণ হলে বাইশারী ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দশ গ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।