ঐ দেখা যায় মুজিব পল্লী

দুই শতক জায়গার উপর নির্মিত দুইটি শোবার ঘর, রান্নাঘর ও বাথরুম। ইটের দেয়াল, উপরে টিনের চাল। রয়েছে একটি বারান্দাও। দীঘিনালা এরকম তৈরি করা হচ্ছে ৪শত ১৯টি দৃষ্টিনন্দন ঘর। তারমধ্যে
মেরুং ইউনিয়নের বড় মেরুং জুরজুরি পাড়ায় ৪২টি ও বেতছড়ি পশ্চিম পাড়ায় ৬০টি সহ বিভিন্ন স্থানে ১৬৭টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ঘরগুলো রয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ভোধনের অপেক্ষায়।

আগামী (২০ জুন) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব ঘর উদ্ভোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ইতোমধ্যেই পাহাড়ি মনোরম পরিবেশে মেরুং ইউনিয়নের জুরজুরি পাড়ায় নির্মিত ঘরগুলো পরিচিতি পেয়েছে মুজিব পল্লী নামে।

বড়মেরুং ৪ নং টাওয়ার এলাকা হতে জুরজুরি পাড়ায় রাস্তায় একটু এগিয়ে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই বলে দিবে ঐ দেখা যায় মুজিব পল্লী।

সব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আবাসন সুবিধার আওতায় আনার জন্য দীঘিনালা উপজেলায় নির্মিত আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘরগুলোর সুবিধাভোগীদের মধ্যে এনিয়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। যে জীবনের লক্ষ্য ছিলো কেবল-ই বেঁচে থাকা, মুজিব পল্লী সে জীবন আজ দালান-কোঠায় সংসার সাজায়।

সুবিধাভোগী এক বয়োবৃদ্ধ জানান, অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে থাকতেন স্ত্রীকে নিয়ে। বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি ডুকতো, ছিলো ঝড়বাদলের ঝাপটা। চরম অনিশ্চয়তার জীবনে কোনোমতে বেঁচে থাকাটাই ছিলো কষ্টের। সেখানে নিজের পাকাঘর তার কাছে স্বপ্নের মতো লাগছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান জানান, গৃহহীনরা শুধু ঘর নয়, সঙ্গে পাচ্ছেন ভূমির মালিকানাও। প্রত্যেককে তার জমি ও ঘরের দলিল নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এটা একটা যুগান্তকারী কর্মসূচি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, দেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। তাঁর উদ্যোগে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর করে দেওয়া হচ্ছে। একসঙ্গে এত ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ঘর করে দেওয়ার বিশ্বে ঘটনা বিরল।

অন্যের বাড়িতে ও রাস্তার পাশে ঝুঁপড়ি ঘরে, স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা, দিনমজুর, ভিক্ষুক ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রধিকার দেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসিত পরিবারগুলোর সদস্যদের আয় সংস্থানমূলক কাজে সম্পৃক্ত হতে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, দক্ষতা অর্জন এবং মানব সম্পদ উন্নয়নের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ কাশেম জানান, এ উদ্যোগটি বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে বিশ্বের ইতিহাসে নতুন সংযোজন। জাতির পিতার জন্মশতবর্ষে এরচেয়ে বড় অর্জন আর নেই।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।