করোনার ভয়কে জয় করে চলছে চন্দ্রঘোনা মিশন খ্রীস্টিয়ান হাসপাতাল

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত চন্দ্রঘোনা মিশন খ্রীস্টিয়ান হাসপাতাল জেলাসহ দেশের মধ্যে একটি স্বনামধন্য হাসপাতাল। গরীব, দুঃখী, অসহায় ও দুস্থ রোগীদের জন্য প্রতিনিয়ত এই হাসপাতালটি নিরলস চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে করোনা ভাইরাসেও থেমে নেই এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। করোনার ভয়কে জয় করে এই শতবর্ষী হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা সকলকে নিয়ে প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

চিকিৎসা সেবায় জন মানুষের আস্তা অর্জন করা এই হাসপাতালটি করোনা সংক্রমন মোকাবেলায় নিয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। যেমনটা, এই সময়টায় যারা সর্দি, কাশি, জ্বর নিয়ে ভর্তি হতে আসছে তাদের সেবা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে ২৪ ঘন্টা ফ্লু কর্ণার ও বিশেষ অবজারভেশন সেল। যেখানে সর্দি, কাশি আক্রান্ত ব্যাক্তিদের আলাদা চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়াও এই হাসপাতালে রয়েছে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির ফিজিও থেরাপি,আধুনিক মানের প্যাথলজি সেবা এবং বিশেষ করে ফার্মেসী সেবা। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে অনেক দুর্গম এলাকাতে গিয়েও এই হাসপাতাল অসহায়দের বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

শতবর্ষী এই হাসপাতাল এর পরিচালক ডা: প্রবীর খিয়াং জানান, জরুরী সেবাসহ ২৪ ঘন্টা হাসপাতালটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছে। দেশের স্বনামধন্য ডাক্তার, নার্স ছাড়াও বিদেশ হতে আগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আউটডোর এবং ইনডোরে প্রতিনিয়ত রোগী দেখে আসছেন।

তিনি আরো জানান, হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারে ২৪ ঘন্টা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং নার্স প্রস্তুত থাকে, যাতে করে যেকোন জরুরী রোগী আসলে জরুরী অপারেশন করতে পারে।

হাসপাতাল এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা: বিলিয়ম জানান, হাসপাতালটি এই অঞ্চলের মানুষের আস্থা অর্জন করে আসছে বছরের পর বছর। কারন এখানকার চিকিৎসক থেকে শুরু করে নার্স স্টাফ সকলেই আন্তরিকতার সাথে কাজ করেন।

হাসপাতালে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা নিতে আসা রাইখালীর বাসিন্দা উচিচিং মারমা, চন্দ্রঘোনার সাহানা বেগম, কাকলী চৌধুরী জানান, এই হাসপাতালটির চিকিৎসকদের আন্তরিক ব্যবহারে তাঁরা মুগ্ধ। এইছাড়া পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকেন সবসময় এই হাসপাতালটি।

রাঙামাটির সাংসদ সদস্য সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, জেলার ত্রাণ সমন্বয়ের দায়িত্ব থাকা বেপজার চেয়ারম্যান (সচিব পদমর্যাদা) পবন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহমেদ রাসেল, রাংগুনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদুর রহমানসহ সরকারের পদস্ত অনেক কর্মকর্তা এই হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন সভা সেমিনারে প্রশংসা করেন।

এতদঞ্চলের এই হাসপাতালটি স্বাস্থ্য সেবার বাতিঘর হিসাবে জনগনের পাশে অতীতে যেভাবে দাঁড়িয়েছেন ভবিষ্যৎতেও তাঁরা এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছেন এখানকার অধিবাসীরা।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।