কাপ্তাইয়ের ব্যাঙছড়ি পাড়ায় ব্রিজ নির্মাণে দুঃখ ঘুচলো ১১৪ পরিবারের

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়ন এর ৫ নং ওয়ার্ডের একটি পাড়া ব্যাঙছড়ি মারমা পাড়া। কাপ্তাই সড়ক দিয়ে চিৎমরম খিয়াং ঘাট পার হয়ে হাতের বাম পাশে প্রায় আড়াই কিঃ মিঃ পথ পাড়ি দিয়ে এই পাড়ায় যেতে হয়। সবুজের সমারোহ একটি শান্ত মনোরম গ্রাম। প্রকৃতির কোলে শুয়ে আছে এই দৃষ্টি নন্দন গ্রামটি। এই গ্রামে ১ শত ১৪ টি পরিবারের বসবাস। জনসংখ্যা প্রায় ৩ শতের কাছাকাছি। কৃষি এবং জুম চাষের উপর তাদের জীবন জীবিকা চলে। আদা, হলুদ, আম,কাঁঠাল ইত্যাদি কৃষিজাত পণ্য উৎপাদিত করে তাঁরা প্রায় ৪ কিঃ মিঃ পথ পাড়ি দিয়ে কাপ্তাইয়ের জেটিঘাট কিংবা নৌ পথে পাড় হয়ে চিৎমরম সাপ্তাহিক বাজারে এইসব পণ্য বিক্রি করে তাঁরা জীবনধারণ করে ।

তবে কাপ্তাই সড়ক হতে ব্যাঙছড়ি পাড়ার যাওয়ার মাঝখানে একটি মাত্র ব্রিজের কারনে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী চরম দূর্ভোগে পড়েছিল। ব্রিজ জরাজীর্ণ অবস্হা থাকায় সড়কে যান চলাচল করতে না পারায় তাদেরকে পায়ে হেঁটে কাঁধে করে এই সব পণ্য বিক্রি করে আবার সাংসারিক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য হাটবাজার হতে কিনে এনে একই পথে পায়ে হেঁটে আসতে হতো।

অবশেষে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যায়ে ৫৭ মিটার গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কাজ গত বছরের ১৫ জুন শুরু করা হয়। অতি দ্রুত ১ বছর ২ মাসের মাথায় এই ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলতি সপ্তাহে শেষ হয়। গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্রিজের নির্মাণ কাজের শেষে উদ্বোধন করেন খাদ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সভাপতি রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার।

এইসময় তিনি ব্যাঙছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সুধী সমাজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত এক দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সড়ক, অবকাঠামোগত উন্নয়নে শত শত কোটি টাকার বরাদ্দ প্রদান করেছেন।

ব্যাঙছড়ি মারমা পাড়ার কার্বারি মংসিলা মারমা জানান, আমরা আগে অনেক কষ্ট করতাম। আমাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে অনেক কষ্ট হতো। এই ব্রিজ হওয়ার পর আমাদের কষ্ট দূর হলো।

ব্যাঙছড়ি মারমা পাড়ার অধিবাসী উচিংথোয়াই মারমা( লাল ভাই) ব্রিজটি নির্মাণ করার জন্য প্রধান মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এখন আমরা হাট বাজারে পণ্য বিক্রি করে নায্যমূল্য পাচ্ছি।

ব্যাঙছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আউসান উল্লাহ জানান, একসময় এই ব্রিজটা না থাকায় ঐ এলাকায় ছড়ার মধ্যে সাতাঁর কেটে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা যাওয়া করতো। আজ এই অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ এই ব্রিজ নির্মাণে সরকার এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদারকে কৃতজ্ঞতা জানাইয়ে বলেন এই ব্রিজ নির্মাণের ফলে এলাকাবাসীর দূঃখ অবসান হলো।

কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য অংসুইছাইন চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণায় রাঙামাটি গণ মানুষের নেতা দীপংকর তালুকদার এর উদ্যোগে এই এলাকায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ হয়েছে এবং ব্যাঙছড়িবাসীর বিদ্যুৎ এর আওতায় এসেছে।

এলজিইডি রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তালেব চৌধুরী জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ব্রিজটি আমরা নির্মাণ করেছি, ফলে এলাকাবাসীর কষ্ট দূর হলো।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।