খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের এ কেমন নির্মমতা !

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নৈশ প্রহরী ধন বিকাশ ত্রিপুরা
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের এক নৈশ প্রহরীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় পেটালেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা। বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলা পরিষদ এলাকার বাসায় ঢুকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা, পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তপন বিকাশ ত্রিপুরাসহ ৪-৫জন মিলে নৈশ প্রহরী ধন বিকাশ ত্রিপুরার ওপর হামলা করে বলে সে অভিযোগ করে।
শুক্রবার বিকেলে ধন বিকাশ ত্রিপুরা সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা, পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তপন বিকাশ ত্রিপুরাসহ ৪-৫ জন বাসায় ঢুকে আমার ওপর হামলা করে। চঞ্চুমনি প্রথমে আমার ঘাড় ধরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে কাঠের টুকরো নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। তপনসহ অন্যান্যরাও আমার ওপর কাঠ ও হাত পা দিয়ে হামলা করে। মারধর করতে করতে আমাকে উপজেলা মাঠে নিয়ে আসলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মীর মোশারফ হোসেন জানান, ধন বিকাশ ত্রিপুরার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শক্ত কোন বস্তু দিয়ে তার ওপর আঘাত করায় শরীরের বিভিন্ন স্থান থেতলে গেছে, সে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা মুঠোফোনে জানান, ধন বিকাশ ত্রিপুরা অন্যায় করায় তাকে মারধর করেছি। সে কী করেছে জানতে চাইলে চঞ্চুমনি চাকমা ধন বিকাশের কাছে গিয়ে জানতে বলেন।
খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান জানান, পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে, এঘটনায় কেউ অভিযোগ করলে পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা নিবে।
জেলা প্রশাসক মো: রাশেদুল ইসলাম জানান, নৈশপ্রহরী ধন বিকাশ ত্রিপুরার ওপর হামলা হয়েছে বলে শুনেছি। সে সুস্থ হওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, পাহাড়ের আঞ্চলিক অনিবন্ধিত সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) এর সমর্থন নিয়ে ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় চঞ্চুমনি চাকমা। তবে বর্তমান সময়ে ক্ষমতাসীন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সাথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।