দারিদ্র্যকে জয় করে এগিয়ে যাওয়া সফল জননী কাপ্তাইয়ের অংক্রানু মারমা

রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের মারমা অধ্যুষিত একটি গ্রাম তম্বপাড়া। সে গ্রামে ম্যাজিস্ট্রেটের মা হিসেবে সুপরিচিত অংক্রানু মারমা। গত ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে “সফল জননী নারী” র সম্মাননা পেয়ে সকলকে অবাক করে দেন তিনি। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনের হাত থেকে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করেন।

কে এই অংক্রানু মারমা?
কাপ্তাই উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রিনি চাকমা জানালেন কিভাবে দারিদ্র্যকে জয় করে এগিয়ে যাওয়া এক সংগ্রামী নারীর গল্পঃ

অংক্রানু মারমার পিতা একজন দিনমজুর ছিলেন। পিতা মাতার অভাবে সংসারে অল্প বয়সে একই এলাকার খ্যুইথুই মারমার সাথে তাঁর বিবাহ হয়। তাদের ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ই অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। সামান্য উপার্জনে ছেলে সন্তানকে নিয়ে কোনোভাবে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যান তাঁরা। তাদের প্রথম সন্তান সুইচিং মারমা তম্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পাশ করার পর ওয়াগ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। একদিন এক বৈদ্যের কথা শুনে সুইচিং মারমা’র পিতা পড়াশোনার খরচ চালাতে পারবেন না বলে তার পড়াশোনা বন্ধ করে দেন এবং তার সাথে কৃষি কাজ করতে বলেন। অংক্রানু মারমা তার স্বামীকে বুঝিয়ে মানুষের বাসায় কাজকর্ম করে তার সন্তানদেরকে পড়ালেখার খরচ ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। এভাবে তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ অংক্রানু মারমা একাই বহন করতেন।

অংক্রানু মারমা এই প্রতিবেদককে জানান, তাদের জীবনের সংগ্রামের গল্প। তাদের প্রথম সন্তান সুইচিং মারমা ওয়াগ্গা উচ্চ বিদ্যালয় হতে জিপিএ-৪.৩১ নিয়ে এসএসসি পাস করেন। জিপিএ ৪.৩০ নিয়ে এইচএসসি পাস করেন কাপ্তাই কর্ণফুলী সরকারি কলেজ হতে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে সমাজতত্ত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস করেন। যেখানে তিনি জিপিএ -৩.৫৬ পয়েন্ট পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তাঁর বড় ছেলে ৩৫ তম বিসিএস পরীক্ষায় উর্ত্তীন হয়ে প্রশাসন ক্যাডার সার্ভিসে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি সহকারী সচিব হিসাবে কক্সবাজার শরনার্থী ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কমিশনের কার্যালয়ে কর্মরত আছেন।

তাঁর ২য় সন্তান,চিংসামং মারমা বর্তমানে তার নিজস্ব জমি-জমা ও বাগান দেখাশোনা করেন,৩য় সন্তান, -হ্লাচিংমং মারমা বর্তমানে গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত এবং ৪র্থ সন্তান-থুইক্রাচিং মারমা, বর্তমানে ওয়াগ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত আছেন।

এই প্রসঙ্গে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মুনতাসির জাহান জানান, অংক্রানু মারমারা আমাদের সমাজের জন্য একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি জীবনের চড়াই উৎড়াই পার করে ছেলেমেয়েগুলোকে স্বাবলম্বী করেছেন। অক্লান্ত পরিশ্রম এবং দৃঢ় মনোবলে তাঁর বড় সন্তানকে সফলভাবে মানুষ করতে পেরেছেন। তিনি একজন সত্যিকারের সফল জননী নারী।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।