পার্বত্য ভূমি কমিশন সংশোধিত আইন অনুসারে কাজ শুরু করেছে

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন কার্যালয়, খাগড়াছড়ি
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন কার্যালয়, খাগড়াছড়ি
আবারো সক্রিয় হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (ল্যান্ড কমিশন)। সংশোধিত নতুন আইন অনুসারে কাজ শুরু করেছে কমিশন। নতুন করে কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় কমিশনের সভা আহবান করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারউল হক। গত ২ আগস্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের খসড়া মন্ত্রী পরিষদে নীতিগত অনুমোদনের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি এ আইনের অধ্যাদেশ জারি করার পর কমিশনের এটি প্রথম উদ্যোগ।
এ দিকে সংশোধিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন বাতিলের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় কমিশনের এ সভাকে ঘিরে নানা জল্পনা কল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন এর সচিব মোঃ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক নোটিশ স্মারক নং-পাচভূবিনিক/খাগড়া/সভা/২০১৬ এর মাধ্যমে এ সভা আহব্বান করা হয়।
ঐ নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, নতুন আইনের পর কমিশনের প্রথম সভায় সংশোধিত আইনের আলোকে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত পরবর্তি কার্যপদ্ধতি নিরুপন, কমিশনের জনবল সংক্রান্ত ও কমিশনের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য বাজেট বরাদ্দ বিষয়ে আলোচনা হবে। রাঙামাটি পুলিশ সুপার সৈয়দ তারিকুল হাসান আগামী ৪ সেপ্টেম্বর কমিশন চেয়ারম্যানের রাঙামাটি সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন সংশোধনের পর মন্ত্রী পরিষদে নীতিগত অনুমোদন দিলে তার বিরোধীতা শুরু করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালীরা। এ আইন বাতিলের দাবিতে তিন পার্বত্য জেলায় হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালী অধিকার ভিত্তিক সংগঠনগুলো।
এর আগে বিচারপতি খাদেমুল ইসলামের নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কাজ শুরু করে। আইন অনুযায়ী খাগড়াছড়ি জেলায় কমিশনের প্রধান কার্যালয় স্থাপন ও জনবল নিয়োগের পর ঐ কমিশন বেশ কয়েকটি সভা করে। কার্যক্রম শুরু পর খাগড়াছড়ি প্রধান কার্যালয়ে ভূমি বিরোধের ৪ হাজার ৭শ ১২টি অভিযোগ দাখিল হয়। বেশ কিছু অভিযোগেরে শুনানীও করে কমিশন। কিন্তু সে সময় পাহাড়িদের আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এর তীব্র বিরোধিতা ও অসহযোগিতার কারণে বিচারপতি খাদেমুল ইসলামের কমিশন আর কাজ করতে পারেননি।
কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি খাদেমুল ইসলামের মেয়াদ শেষ হলে দুই বছর কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ খালি থাকে। এরপর ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ারউল হককে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু নতুন চেয়ারম্যান ভূমি কমিশন এর কোন কাজে হাত দেয়নি। এদিকে ভূমি কমিশন আইনের সংশোধনির দাবিতে জেএসএস এর আন্দোলন অব্যাহত থাকে। সর্বশেষ গত ২ আগস্ট আঞ্চলিক পরিষদের প্রস্তবনা অনুযায়ী এ আইনের সংশোধন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধিত) আইন মন্ত্রী পরিষদ সভায় নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। এর পর কমিশন প্রথমবারের মতো সভা আহবান করে।
এদিকে এ সভাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কমিশনের প্রধান কার্যালয় খাগড়াছড়ি হলেও রাঙামাটিতে সভা আহবান করায় এ নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকেই।

আরও পড়ুন
Loading...