বাতাস ছাড়াই আগুন নেভাই

আচ্ছা আগুন নেভাতে কী কী লাগে? পানি, বাতাস, বালি, কার্বন ডাই অক্সাইড। কার্বন ডাই অক্সাইড একটি গ্যাস এটা নিজে জ্বলে না আর আগুনকেও জ্বলতে সাহায্য করে না। বাতাস আগুন নিভিও দিতে পারে আবার বাড়িয়েও দিতে পারে। এটা নির্ভর করবে বাতাসে কতটা অক্সিজেন আছে নাকি কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছে তার উপরে। বাতাসে যদি অক্সিজেনের ঘনত্ব বেশি থাকে তাহলে আগুন বেড়ে যায় আর যদি কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব বেশি থাকে তবে আগুন নিভে যায়।
কার্বন ডাই অক্সাইডের আগুন নিভাতে পারার এই ধর্ম ব্যবহার করে অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র অর্থাৎ যা দিয়ে আগুন নেভানো যায় সেই যন্ত্র তৈরি করা হয়। ঐ যন্ত্রগুলোতে খুব উচ্চ চাপে কার্বন ডাই অক্সাইডকে তরলে রূপান্তর করে সিলিন্ডারে ভর্তি করে রাখা হয়।
সব ধরণর আগুন নেভাতে কিন্তু পানির ব্যবহার করা যায় না। ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট বা রাসায়নিক বিক্রিয়াতে আগুন লাগলে পানি আরও হীতে বিপরীত করে। এইসব ক্ষেত্রে কার্বন ডাই অক্সাইড খুব ভালো ভূমিকা পালন করে থাকে।
আমরা আজকে একটা মোমবাতিকে নিভাবো বাতাস না দিয়ে এবং ফুঁ না দিয়ে। এটা করতে পারলে আমরা কার্বন ডাই অক্সাইডের ভূমিকাটা আরও ভালো করে বুঝতে পারব।
আমাদের যা যা লাগবে–
১। মোমবাতি ২। দেশলাই ৩। একটা বড়, গভীর, স্বচ্ছ কাঁচের বাটি ৪। ভিনেগার ৫। এক চা-চামচ বেকিং পাউডার
যেভাবে করব—
১। প্রথমেই বড়, গভীর, স্বচ্ছ কাঁচের বাটিটিতে মোমবাতিটি দাঁড় করাবো।
২। বাটিতে কিছুটা ভিনেগার ঢেলে দিবো।
৩। এবার মোমবাতিতে আগুন ধরিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করব যেন মোমবাতিটি ঠিক মতো জ্বলে উঠে। যেহেতু মোমবাতিটি গভীর একটা বাটির মধ্যে রাখা বাইরের বাতাস এসে এর শিখা নাড়াবে না অথবা নিভিয়েও দিতে পারবে না।
৪। এখন বাটিতে ভিনেগারের মধ্যে একটু একটু করে পুরো এক চামচ বেকিং পাউডার ঢেলে দিবো।
৫। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাটির ভিনেগারের সঙ্গে বেকিং পাউডারের বিক্রিয়া হবে আর বাটিতে বুদবুদ দেখা যাবে। বুদবুদ দেখা যাওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মোমবাতির আগুনটি ছোট হতে হতে চট করে নিভে যাবে।
কেন এমন হলো?
বাটিতে থাকা ভিনেগার বেকিং পাউডারের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস তৈরি করে। গ্যাসীয় পদার্থের ওজন কম হওয়ার দরুন এটি উপরের দিকে উঠে যায় তখন, উপরে জ্বলতে থাকা মোমবাতিটি নিভে যায়।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।