মানবতাবিরোধী অপরাধীর আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছেন খালেদা জিয়া: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিএনপি এখনও জামায়াতকে ছাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বাঁচাতে কাজ করা বিদেশি আইনজীবীকে খালেদা জিয়া নিয়োগ দিয়েছেন। নিজের আইনজীবীর ওপর কোনও বিশ্বাস নেই বলে খালেদা জিয়া একজন বিদেশি আইনজীবীকে নিয়োগ করেছেন।’ মঙ্গলবার শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ১৪ দলের তিনি এই মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে ১৪ দল শহীদ মিনারে এই ‘গণ সমাবেশ’ আয়োজন করে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই কুখ্যাত বিদেশি আইনজীবী একাত্তরের ঘাতক, মীর কাশেম আলীর আইনজীবী হয়েছিলেন। যিনি একাত্তরের ঘাতকের লবিস্ট ছিলেন, সেই আইনজীবীকে এখন ঢাকায় আনছে খালেদা জিয়ার দল।’

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বিএনপির নেত্রী জেলে আর তাদের আন্দোলন ঘরে। কারণ বাইরে আসার ক্ষমতা তাদের নেই। আইনের ওপর বিশ্বাসও তাদের। আদালত খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছেন, এখানে আমাদের কোনও হাত নেই।’ তিনি বলেন, ‘এখনও খালেদা জিয়া জামায়াতকে ছাড়েননি। একাত্তরের ঘাতকদের ছাড়েননি। কিন্তু আগামী নির্বাচনে বাংলার জনগণ খালেদা জিয়াকে চিরদিনের জন্য ছেড়ে দেবে, বর্জন করবে। একাত্তরের ঘাতকদের আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না।’

প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার আইনজীবীদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কারলাইলকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন।

সমাবেশে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘দেশে বারবার জঙ্গি আক্রমণ হয়েছে। অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলা একই ধারাবাহিকতা।’

যত বাধাই আসুক, বাঙালি জাতি বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত হবে মন্তব্য করে আমির হোসেন আমু বলেন, ‘আমরা আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি। উন্নত রাষ্ট্রেও পরিণত হবো। দেশের এই অর্জন, এই উন্নয়ন যারা চায় না, তারা বারবার ষড়যন্ত্র করবে। জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার মাধ্যমে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইবে। তবে আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপশক্তিতে প্রতিহত করবো।’

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ লালিত ও হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে বিএনপির মাধ্যমে। তারা এটি অস্বীকার করতে পারবে না।’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের ওপর আক্রমণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আক্রমণ। এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। পরিকল্পিত ঘটনা। ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করা হবে।’

এদিকে ১৪ দল বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের প্রতিবাদে ৩০ মার্চ রংপুর, ৫ এপ্রিল যশোর ও ৭ এপ্রিল ফেনীতে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে।

মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, আরেকাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি, গণআজাদী লীগের সাধারণ সভাপতি এ কে শিকদার, সাম্যবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহবায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, নাগরিক কমিটির সদস্য ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশীদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌ মিক প্রমুখ।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।