রুমায় কাজু বাদামের ভাল ফলনে লাভবান চাষিরা

রুমায় কাজু বাদামের ফলন
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কাজু বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। কাজু বাদাম গতবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গত বছরে মন প্রতি ১৮শ থেকে ২৯শ টাকায় বিক্রি হলেও এবার ২হাজার ৩শ টাকা থেকে ৫হাজার ৭শ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এতে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে চাষিরা। এর ফলে আনন্দের বাতাস বইছে চাষিদের ঘরে-ঘরে।
রুমা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উপ-সহকারি কর্মকর্তা ইউসুফ মিয়া পাহাড়বার্তা‘কে জানান, এবারে ২০০হেক্টর জমির বাগানে কাজু বাদাম বা কেসনাট চাষাবাদ হয়েছে। কৃষিবিভাগের লোকজন সার্বক্ষণিক সার্বিক তত্ত¡বধান ও আবহাওয়া অনুকূল থাকায় হেক্টর প্রতি ২.৫ মেট্রিক টন করে প্রায় ৫শ মেট্রিক টন কাজু বাদাম উৎপাদিত হয়। যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়েছে এবার। এর দামও আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
তিনি আরো জানান, এই উপজেলায় কাজু বাদাম চাষাবাদের সাথে কমপক্ষে ২১০টি পরিবারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের কাজু বাদাম চাষের উৎসাহিত করতে মৌসুমের শুরুতে তৎপরতা চালানো হয়েছিল। কৃষিবিভাগের সার্বিক দিক নির্দেশনা মোতাবেক কাজু বাদাম বাগান পরিচর্যা ও সঠিক নিয়মে বীজ সংগ্রহের কারণেই কৃষকরা কাজু বাদাম বাম্পার ফলনে লাভবান হয়েছে বলে জানা গেছে।
রুমা সদর ইউনিয়নের বটতলি পাড়ার কৃষক মেলাং মারমা ও আমতলি পাড়া মংথোয়াইসা পাহাড়বার্তা‘কে বলেন, এবার গত বছর চেয়ে কাজু বাদাম ভাল ফলনের পাশাপাশি দাম ভাল পাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে তারা।
এ প্রতিবেদক রুমার বটতলী পাড়া থেকে ফেরার পথে কথা হয় চট্ট্রগ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আব্দুর নাছিরের সঙ্গে। এসময় এই ব্যবসায়ির কিনে নেয়া কাজু বাদাম বীজগুলো ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য বটতলী পাড়ায় আসছিলেন। নাছির জানান, এবছর কাজু বাদাম এর চাহিদা বেশি, তার পাশাপাশি দামও বেশ। রুমার বিভিন্ন পাড়া থেকে বীজ কিনেছে সে। কোথাও প্রতিমণে সাড়ে তিন হাজার। জরুরি প্রয়োজনে ট্রাক লোড করতে মণপ্রতি ৫ হাজার ৭শ টাকায়ও কিনে নেয়, তবে সবটা নয়। স্বাভাবিকভাবে গড়ে প্রতি মণে ৪ হাজার ৫শ টাকায় কেনা গেলে কোনো লোকসান হয়না বলে জানায়।
আব্দুর নাছির আরো বলেন, পাহাড়ি কৃষকরা এখানকার স্থানীয় বাঙ্গালীদের কাছে বেশি ঠকে। কেননা, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সিন্ডেকেট করে কাঁচামালের মূল্য কম দেয়। আর আমরা যারা দুর থেকে মালামাল নিতে আসি, তাদের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে মানা করে। এ নিয়ে প্রায় সময় সিন্ডেকেট লোকজনের সঙ্গে কথাকাটি করতে হয়।
রুমার পলিতং পাড়া বাসিন্দা বাগান চাষি ছোঅংপ্রু মারমা পাহাড়বার্তা’কে বলেন, আমার এবছর ২৫মণের মতো কাজু বাদামের বীজ ঘরে তুলেছি। রুমা বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে মণপ্রতি ৪ হাজার ২শ টাকা বেশি দিতে চায় না ব্যবসায়ীরা। এজন্য চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটের এক ক্রেতা সাথে প্রতিমণে ৫ হাজার ১শ টাকায় দরদাম চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।