সরকারি অর্থে নির্মিত ঘর নিজের দেখিয়ে ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

খাগড়াছড়িতে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ভূমি অধিগ্রহণ

খাগড়ছড়িতে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনে ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়ায় সরকারি অর্থে নির্মিত ঘর নিজের দেখিয়ে ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি জনতা রঞ্জন ত্রিপুরা জেলাসদরের গোলাবাড়ি ইউনিয়নের ঠাকুরছড়া এলাকার বাসিন্দা এবং গোলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা’র বড় ভাই।

সরকারি ঘর সরকারের কাছেই বিক্রির এই খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা সদরের গোলাবাড়ি ইউনিয়নের ২৬২নং মৌজায় ‘এম এ হান্নান ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ স্থাপন করার লক্ষ্যে তৎকালিন সরকারের আমলে ‘জমি আছে বাড়ি নেই’ প্রকল্পের মাধ্যমে যে ঘরটি নির্মাণ করা হয় সেই ঘরের মালিক ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ‘এম এ হান্নান ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ স্থাপনের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্রগ্রাম (ভূমি অধিগ্রহণ) প্রবিধান, ১৯৫৮ সালের (১নং প্রবিধান)এর ৩(২) ধারা মতে ৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। ভূমি অধিগ্রণন ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৮ কোটি ২৪ লক্ষ ৩৯ হাজার ৪শ ৪২ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এই ভূমিতে অবস্থান করা ব্যক্তিদের স্থাপনায় ১২টি উল্লেখ্য করে ১ কোটি ৮৬ লক্ষ ৩৪ হাজার ৪৯৮ টাকা দেয়া হয় তাদের। ভূমি অধিগ্রহণের সুবাদে ২০১৩ সালে তৎকালিন সরকারের আমলে ‘জমি আছে বাড়ি নেই’ প্রকল্পের ঘরটির মালিককেও ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৩ লক্ষ ৪৭ হাজার ৬৭৫ টাকা দেয়া হয়।

নাম প্রকাশ করার শর্তে এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গোলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরার বড় ভাই জনতা রঞ্জন ত্রিপুরা এই ঘরটি যে সরকারি ঘর সেই তথ্য গোপন করেই অধিগ্রহণের স্থাপনা বাবদ ক্ষতিপূরণের টাকা সরকারি চেকমূলে গ্রহণ করেছেন। যে ঘরটি সরকার তৈরি করে দিয়েছে সেই ঘরটি আবার কিভাবে সরকারের কাছে বিক্রি করলো এমন প্রশ্ন সর্বত্র। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিল ঐ ব্যক্তি।

৪নং পেরাছড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সঞ্জিব ত্রিপুরা জানান, ২০১৩ সালে তিনি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় এ জেলার ৫টি ইউপিতে সেই সময়ের সদর উপজেলার ইউএনও আসাদুজ্জামান এবং পিআইও আশিকুর রহমানের নির্দেশে ”জমি আছে বাড়ি নেই” প্রকল্পের অনুকূলে ২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই ঘরটিসহ প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একটি করে ঘর নির্মাণ করা হয়।

তৎকালিন পিআইও আশিকুর রহমান এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। রেকর্ডপত্র দেখা ছাড়া কিছু বলতে পারবো না।

৩নং গোলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জ্ঞানরঞ্জন ত্রিপুরা ঘরটি সরকার কতৃক নির্মিত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এক সময় সরকার করে দিয়েছে কিন্তু আবার যখন নিয়ে যাবে তখন তো ক্ষতিপূরণ দিয়েই নিতে হবে। সরকারি ঘর সকারের কাছে বিক্রির কোন নিয়ম আছে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন নিয়ম অনিয়মের বিষয়টি জেলা প্রশাসক ভালো জানেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, যদি ওখানে সরকারি অর্থে নির্মিত ঘর থেকে থাকে তাহলে তা অনেক আগের। ভূমি অধিগ্রহণের জায়গায় এই ঘরটি যে সরকার কর্তৃক নির্মিত হয়েছে সেই তথ্য আমার জানা নেই। প্রকৃত পক্ষে সরকারি অর্থে নির্মিত ঘর নিজের নামে দেখিয়ে অর্থ নিয়ে থাকলে ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত নেয়ার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. দ্বিজু সেন বলেছেন

    সব ধান্দাবাজ সরকারি লোকদের দরকার ছিল ঠিক করে যাচাই বাচাই করা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।