পাহাড়ে সূর্যমুখী চাষে সফলতা

অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে ও পাহাড়ের সূর্যমুখী ফুলের দ্বার উন্মোচন করার প্রত্যয় বুকে নিয়ে প্রায় ৩৩ শতক জমিতে চাষ করে বসেন স্নেহাংশু চাকমা। পাহাড়ী মাটি সূর্যমুখী কতটা সফল হতে পারে, সেই দিকে না গিয়ে মনের জোরে এমন ঝুঁকি নেন। সহায়তার জন্য এগিয়ে আসে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। স্নেহাংশু চাকমা ও কৃষি বিভাগ এই দুই মিলে পাহাড়ে প্রথমবারের মত ফোটাল সুর্যমুখি ফুল। তাতেই পেশায় কৃষক স্নেহাংশু চাকমার চোখে মুখে রাজ্যের যত উচ্ছাস আর আনন্দ।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের এই সূর্যমুখী চাষ করা হলেও পাহাড়ী জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে এই প্রথম হলুদে রঙ এর সূর্যমুখী ফুলের চাষে সফলতা এসেছে। এখন স্নেহাংশু চাকমার পাশাপাশি অন্য চাষীরাও সূর্যমুখী চাষে এগিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। এদিকে পাহাড়ে প্রথমবারের মত সূর্যমুখী ফুল ফুটেছে জেনে প্রতিদিনই ভীড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

রাঙ্গামাটি কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এটা আমাদের জন্য বিরাট খুশির খবর। পাহাড়ে এর আগে কোথাও সূর্যমুখী চাষ হয়নি। সূর্যমুখী চাষে চাষীরা এগিয়ে আসলে এখানকার অর্থনৈতিক খাতে বিরাট ভুমিকা রাখতে পারতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূর্যমুখীর তেল চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। তাদের পরামর্শ, সূর্যমূখী চাষ করতে হলে প্রথমত দানাগুলো পানিতে ১-২ রাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। অংকুর জালে ১২-১৪ ইঞ্চি দূরে দূরে সারিবদ্ধ ভাবে চারার মত রোপন করতে হবে। এভাবে যে যত পরিমান জায়গায় চাষ করতে আগ্রহী সে তত পরিমান চারা রোপন করতে পারবে।

রুপকারী ইউনিয়নের মগবান এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও চাষী স্নেহাংশু চাকমা জানান, এই সূর্যমূখী চাষ সম্পর্কে সে প্রথম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুগল থেকে ধারনা গ্রহন করি। পরে সেটি নিয়ে সে দীর্ঘ দিন গবেষণা করি। ৩৩ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই চাষ শুরু করেছি। সূর্যমুখী চাষে সফলতা বয়ে আনলে মানুষ আর সরিষার চাষ করবেনা। কারন সূর্যমুখী তেল সরিষার তেলের চেয়ে অনেক গুন ভাল ও উপকারি। সূর্যমুখী তেল ব্যবহারে হার্টের রোগ নিরাময় করে এছাড়াও ক্ষতিকার কোন উপসর্গ নেই সূর্যমুখী তেলে। প্রথমবারের মত ফলন মোটামুটি ভাল হয়েছে।

রুপকারী ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কুন্তেল রায় চাকমা জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হতে প্রথমবারের মত প্রদর্শনী মূলক হিসেবে বাঘাইছড়িতে এই প্রথমবারের মত সূর্যমুখী চাষ শুরু করেন। এটি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের একটি নতুন ও প্রদর্শনী মূলক সূর্যমুখী চাষ। এই চাষে সফলতা দেখা দিলে আগামী চাষীদের চাষ করতে উৎসাহিত করা হবে। তবে প্রথম চাষে ভাল ফলন দেখা গেছে। তারপরও চাষীকে আমরা বলেছি, যদি সে বিক্রি করতে না পারে তাহলে কৃষি বিভাগ সূর্যমুখী গুলো ক্রয় করে নেবেন। সূর্যমুখীর তেল স্বাস্থ্যসম্মত বলে বিজ্ঞানীরাও বলেছেন। এটা সরিষার চেয়েও অনেক ভাল।

এদিকে, রাঙামাটি কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আপ্রু মারমা বলেন, বাঘাইছড়িতে সূর্যমুখী ফুল চাষ সম্ভাবনাময় প্রকল্প। এখানে ১০জন চাষীকে ১০ বিঘা জমির মধ্যে কৃষি বিভাগ থেকে সার ও বীজ দিয়ে ফুল চাষে উদ্ভুদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, এ সূর্যমুখী প্রায় ৪৭ ভাগ তেল উৎপাদন করা হচ্ছে এবং বর্তমানে সূর্যমুখী ফুল কেজি প্রতি ৫০-৫৫ টাকা দরে বিক্রয় করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।