বান্দরবানে জুম পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়ার চাষ : কপাল পুড়ছে চাষীদের

বান্দরবানের জুম পাহাড় থেকে সংগ্রহ করা মিষ্টি কুমড়া
বান্দরবানে জুমের পাহাড়ে এ মৌসুমে ব্যাপক হারে কুমড়া চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় নায্যমূল্য পাচ্ছেন না চাষীরা। নানাবিধ পুষ্টিগুণ সম্মৃদ্ধ আর খেতে সুস্বাদু সবজি হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। পাহাড়ে উৎপাদিত হালকা মিষ্টি স্বাদের মিষ্টি কুমড়া সবজি’টি পাওয়া যায় সারাবছর জুঁড়ে। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় বলে মিষ্টি কুমড়ার চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। চাহিদা থাকায় বান্দরবানের পাহাড়ে জুমের পাশাপাশি বাড়ছে মিষ্টি কুমড়ার চাষও।
জুমের পাহাড়ে বছরে দু’টি মৌসুম খরিদ-১ ও খরিদ রবিতে ধানের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও কুমড়া জাতীয় ফলের চাষ হয়। বান্দরবান কৃষি বিভাগের মতে, বান্দরবানের রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, সদরসহ জেলার সাত উপজেলায় চলতি বছর মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে ৫৫০ হেক্টর জমিতে। গতবারের তুলনায় এবছর চাষ বেড়েছে ৫০ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদন বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার মেট্টিক টনের মত। এ মৌসুমে ২শ ৪৮হেক্টর জমিতে ৯হাজার মেট্রিকটন কুমড়ার ফলন হয়েছে। ব্যাপক ফলন হলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছেনা। এতে লাভের চাইতে ক্ষতিই গুণতে হচ্ছে এসব পাহাড়ি কৃষকদের। যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাজারজাত করণের সহজ উপায়, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বড় বড় আড়তদারদের সাথে সরাসরি সম্পর্ক না থাকায় মধ্যস্বত্ত¡ভোগিদের দৌরাত্মের কারণে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না জানিয়েছেন অনেক কৃষক।
বান্দরবানের টংকাবর্তীর চাষী মেনথং ম্রো ও থনলক ম্রো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টংকাবর্তী, মাঝেরপাড়া, সুয়ালক, চিম্বুক’সহ আশপাশের এলাকাগুলোতে জুমে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে এবছরও। ভালো ফলন হওয়ার পরও নায্যমূল্য পাচ্ছেনা তারা। লোকসান কমাতে বাধ্য হয়ে তারা ব্যবসায়ীদের কেজি ৭ থেকে ৮ টাকায় এবং মণ ৩শ টাকায় বিক্রি করছে। এভাবে চলতে থাকলে মিষ্টি কুমড়ার চাষ বন্ধ করে দিবে বলে জানান চাষীরা।
স্থানীয় শিক্ষক রেংরুই ম্রো বলেন,পাহাড়ে জুম চাষে উৎপাদিত পুষ্টিকর মিষ্টি কুমড়া চট্টগ্রাম হয়ে বিদেশেও যাচ্ছে। কিন্তু মধ্যস্বত্ব ব্যবসায়ীর দ্বিগুন মুনাফা লাভ করার কারণে নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বহু কৃষকেরা। শ্রমিকের মজুরীর টাকা না উঠায় অনেক চাষী ক্ষেতের মিষ্টি কুমড়া বিক্রির জন্য বাজারেই তুলেনি। রাস্তার দুপাশে জুম ক্ষেত গুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মিষ্টি কুমড়া।
এ ব্যাপারে বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের উপ-পরিচালক মো: আলতাফ হোসেন বলেন, বান্দরবানের পাহাড়ে মিষ্টি কুমড়ার চাষ বাড়ছে দিন দিন। উৎপাদন বেশি হওয়ায় মধ্যস্বত্ব ভোগী থাকলে ও নায্যমূল্য পাচ্ছে চাষীরা। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখনো অনেক এলাকার চাষীরা উৎপাদিত সবজি সরাসরি বাজারে বিক্রি করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এটা আমরা জানি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের উপ-পরিচালক মো:আলতাফ হোসেন আরো বলেন,আমরা কৃষকদের বিনামুল্যে বিভিন্ন বীজ,সার ও ফসল উৎপাদনে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি ,আগামীতে ও কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন কর্মকান্ড সম্পাদন করবো।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।