ভানরামঙাক বম এর শখের কবুতর

শখের বশে শুরুতে এক জোড়া কবুতর কিনে পালন করছিলেন, তা এখন বেড়ে একশ ৫০ বেশি হয়েছে। খরচ বাদে ছয় হাজার আয় হয় কবুতর বিক্রি করে। এটা সহায়ক হিসেবে পরিবারের বিকল্প আয়। তাই আরো ১ হাজার বাড়ানো পরিকল্পনা করছেন এখন। এসব কথা জানিয়েছিলেন ভানরামঙাক বম ভানপা(৫১)।

আজ শুক্রবার (১৪ মে) দুপুরে রুমা সদর ইউনিয়নের বেথেল পাড়ায় ভানপা বমের বাড়িতে বসেই এসব কথা হয়েছিল এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। এর আগে বেথেল পাড়ার মেম্বার রামচুয়ান বম ও পায়েল বম কবুতর পালনের বিষয়টি মুঠোফোনে জানিয়েছিলেন।

এ প্রতিবেদক সরেজমিনে বেথেল পাড়ায় গিয়ে দেখতে পান ভানপা বমের বাড়ির উত্তর পূর্বদিকে কবুতর গুলো উড়ে এসে নেমেছিল। এদৃশ্য দুর থেকেও লক্ষ্য করা গেছে। বাড়ির বাউন্ডারি প্রবেশ করতেই দেখা মিলে স্থানীয় মেম্বার রামচুয়ান বমের সাথে। সে এ প্রতিবেদকে ভানপা বমের রান্না ঘরে পর্যন্ত সরাসরি নিয়ে যান।

খোলামেলা কথা হলো ভানপা ও তার সহধর্মীনি স্কুল শিক্ষিকা মেরী ফ্লাওয়ারের সঙ্গে। পাহাড়বার্তা’কে ভানপা বম বলেছেন, ফেসবুক দেখতে গিয়ে এক ভিডিওতে অভিনেতা ডিপজল কবুতরগুলোকে খাঁচা থেকে বের করে কি একটা খাবার খাওয়াচ্ছিল, অসংখ্য কবুতর। খাবার খাওয়ানো ও ডিপজলকে ঘিরে কবুতরগুলোর উড়া-উড়িতে তার মনের আনন্দ আর প্রশান্তির বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলাম। তখন চিন্তা করলাম কবুতর পালালে শুধু ভোজনের তৃপ্তি নয়, মনকেও বেশি করে আনন্দ দিতে পারে। এতে কবুতর পালনে আমাকে আরো উৎসাহিত করছে ভিডিওটি। তবে সখের বশে এর আগে গ্রিভার দেশী জাতের এক জোড়া কবুতর কেনা হয়ে গেছে।

ভানপা বম পাহাড়বার্তা’কে বলেন, কবুতর পালাতে আমেরিকা প্রবাসী তার বোনের জামাই ডেভিদও মাঝে মধ্যে তাকে মুঠোফোনে ও ভিডিও পাঠিয়ে উৎসাহিত করত। রুমায় কবুতর চাহিদা যথেষ্ট আছে। চাইলেও অনেক জনকে দিতে পারছিনা। বিগত তিন বছরে কতটি বিক্রি করা হয়েছে সে হিসাব রাখেননি ভানপা বম। তবে গত তিন মাসের হিসাবের কথা জানিয়ে ভানপা বম বলেন, দেড়শ কবুতরের জন্য প্রতিদিন তিন কেজি খাবার প্রয়োজন হয়। সেটা চাল, গমের গুঁড়া ও ধানের সাথে ডালও দরকার হয়। খাবারে লাল ডাল দেখলে কবুতরগুলো পাগল হয়ে যায়। খাবার দিতে গেলে উড়াউড়ি করে গায়ে মাথায় ও হাতে এসে বসে কবুতরগুলো। তখন মনও ফ্রেস হয়ে আনন্দ পায় আমি।

দিনে কমপক্ষে দুই বার খাবার দিতে হয়, বাদবাকী বাইরে সংগ্রহ করে খায়। আবার ডাল মিশিয়ে খাওয়ালে কবুতরের মাংসও বাড়ে। এসব খাবার কিনতে মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। তাছাড়া নিয়মিত সকালে হলে খাচার সামনে গামলা ভর্তি পানি রাখা লাগে। কারণ কবুতরগুলো গোসল করে বলে জানালেন ভানপা বম।

পাহাড়বার্তা’কে ভানপা বম আরো বলেন, বাচ্চা কবুতর জোড়া ৫০০টাকা, আর পরিপক্ক কবুতর প্রতিটি ৩০০-৩৫০ টাকায বেচা-কেনা হয়। গত এপ্রিল মাসে ৪০টি কবুতর বিক্রি করে মাস শেষে তার একটি বাঁশের চুঙ্গায় জমেছে ১০হাজার টাকার বেশি। পুরো মাসের খরচ বাদ দিয়ে ছয় হাজার টাকার দান হিসেবে গির্জায় দিয়েছি। সে টাকা ছিল কবুতরের টাকা। তার মানে মাসে ছয় হাজার টাকা লাভ হিসেবে ধরতে পারেন বলে জানালেন ভানপা বমের সহধর্মিনী স্কুল শিক্ষিকা মেরী ফ্লাওয়ার। সে জানায় কবুতর পালন এখন বাড়িতে একটা বিকল্প বা রাড়তি আয় বলা যাবে।

এক প্রশ্ন ভানপা বম বলেন, কবুতর যাতে এক হাজার হয়, এজন্য টানা ছয়মাস একটাও বিক্রি করব না। এর মধ্যে পাকিস্তানের সিরাজী লাহোর জাতের কবুতর চট্টগ্রাম থেকে ১০০০ টাকায় কিনেছে একটি।

তাছাড়া ধান কেনা হয়েছে-৪০ আড়ি (প্রতি আড়িতে ১০ কেজি থাকে)। আরো গম ও ডাল কিনে কয়েক মাসের জন্য কবুতর খাবার মজুদ রাখবেন বলে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।