এবার সেই প্রকল্পে খরচ করা হলো মাত্র ৫ হাজার টাকা !

পাহাড়বার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর

আড়াই লাখ টাকার প্রকল্পে মাত্র ১২ হাজার টাকা খরচ করে প্রকল্পের কাজ করে পার পাচ্ছেন এক প্রতিনিধি? এ প্রশ্নে বান্দরবানে রুমা উপজেলায় পাড়া-গ্রামের চা দোকান থেকে অফিস পাড়া পর্যন্ত আলোচনা-সমালোচনা ঝড় ওঠেছে। এই নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, গত ২৩ জুন পার্বত্য জেলার জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল পাহাড়বার্তা ডটকম-এ ” রুমায় আড়াই লক্ষ টাকার প্রকল্পে মাত্র ১২ হাজার টাকা খরচ” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।

প্রশাসনের চাপের মুখে অভিযুক্ত মেম্বার আজ বুধবার (২৪ জুন) সকালে রুমা বাজার থেকে পাঁচজন শ্রমিক সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প এলাকায় যান। ওই পাঁচজন শ্রমিক সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় দুই ঘন্টা এলিম-ছাংদালা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সামনে মাঠ ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার করে, জনপ্রতি ১ হাজার করে ৫হাজার টাকা পারিশ্রমিক প্রদান করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, খেলার মাঠ সংস্কার বিপরীতে বরাদ্দ আড়াই লক্ষ টাকা হলেও মাঠ সংস্কারের কাজে এই পাঁচজন শ্রমিক ছাড়া আর কোনো কাজ করা হবে কিনা, তা কিছুই বলেননি।

তাদের ভাষ্য মতে, স্থানীয় মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা পাড়াবাসীকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রুমা বাজার থেকে নিয়ে যাওয়া পাঁচজন শ্রমিকের দৈনিক এক হাজার টাকা হারে মোট পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। পাড়ার লোকজন আরেক প্রশ্নে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে খেলার মাঠ সংস্কারের কাজ আরও করানো হবে কিনা তা স্পষ্ট করে বাড়াবাসীকে কিছুই জানায়নি। তবে এই প্রকল্পের কাজ অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলে জানালেও মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের রোষাণনলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাদের (তথ্যদাতা) নাম পত্রিকা কিংবা অনলাইনে প্রকাশ না করতে এ প্রতিবেদককে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

NewsDetails_03

স্থানীয় পাড়াবাসী ও সংশ্লিষ্টদের সূত্রমতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০০ আসনের সংসদ সদস্যের অনুকূলে কাবিটা-কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ১নং পাইন্দু ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ‘এলিম-ছাংদালা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংস্কার প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ নেয়া হয় দুই লক্ষ ৫০হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রকল্পের মোট বরাদ্দ থেকে অর্ধেক টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন প্রকল্প সভাপতি অংখ্যাইসা মার্মা।

এলিম-ছাংদালা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মংক্যউ মার্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খেলা মাঠ সংস্কারের আড়াই লক্ষ টাকা নিলেও পাড়াবাসী কিংবা বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষককে কিছু জানানো হয়নি। পরে বিভিন্ন ভাবে বিদ্যালয় এলাকা পাড়াবাসিও শিক্ষকেরা প্রকল্প ও বরাদ্ধের বিষয়টি জানতে পারে।

বিষয়টি জানতে প্রকল্পের সভাপতি ও ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা বলেন পাড়াবাসী পরামর্শক্রমে প্রথমে বৌদ্ধ বিহার এলাকায় মাঠ সংস্কার করা হয়েছিল। পাড়ার মধ্যে একটি অংশ আপত্তি তোলায়, আবার বিদ্যালয়ের সামনে মাঠ সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে।

আড়াই লক্ষ টাকার প্রকল্পে মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় খরচ করলেন, এ প্রশ্নে কোন কিছু কথা বলতে অপরগতা প্রকাশ করেন প্রকল্পের সভাপতি ও ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ কাউছার, প্রকল্পের অর্ধেক টাকা ছাড় দেয়া হয়েছিল, কাজ না করলে কোন চূড়ান্ত বিল দেয়া হবে না।

আরও পড়ুন