খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি: এখনো পানিবন্দী ৬ হাজার পরিবার, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

খাগড়াছড়ি জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করেছে। তবে পানি সম্পূর্ণ নেমে না যাওয়ায় এখনো জেলা সদর, দীঘিনালা ও মহালছড়ি উপজেলার প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া, বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো প্রায় ২ হাজার মানুষ অবস্থান করছেন।

​এদিকে, বন্যা ও সড়ক যোগাযোগের সমস্যার কারণে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ সহযোগিতায় পর্যায়ক্রমে নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

​বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দুর্গত ও অসহায় মানুষের মাঝে শুকনো ত্রাণ এবং রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

NewsDetails_03

​টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের বন্যায় জেলার অভ্যন্তরীণ ও গ্রামীণ সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলে অন্তত এক হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ চারা, শাকসবজির ক্ষেত এবং ফলবাগান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, বন্যার পানিতে ভেসে গেছে কয়েক শ পুকুরের মাছ।

​বন্যার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত শতাধিক বসতবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

​ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, দুর্গত এলাকায় জরুরি ত্রাণ তৎপরতা সচল রাখতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসনের অনুকূলে ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পার্বত্য জেলা পরিষদকে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুর্গত মানুষের পুনর্বাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন