পর্যটন দিবসের আয়োজন সম্পর্কে জানেন না পর্যটন শিল্পে জড়িতরা !
বান্দরবান
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসে বান্দরবানের পর্যটন খাতেই দেখা দিয়েছে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির অভিযোগ।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের কী কর্মসূচি রয়েছে তাই তারা জানেন না। তাদের দাবি, প্রতিবছর শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভা হলেও পর্যটনশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, প্রচারণা ও অংশীজনদের সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় না। ফলে দিবসের আয়োজন অনেকটা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মো.সিরাজুল ইসলাম জানান, বান্দরবানে পর্যটন দিবস উদযাপন হবে কিন্তুু আমরা কিছুই জানিনা। সমন্ধয়ের অভাবে বান্দরবানের পর্যটন শিল্প ধবংস হয়ে যাচ্ছে।
বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো.জসিম উদ্দিন জানান,পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে তারা জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনকে সবসময় সহযোগিতা করে আসছেন। কিন্তু এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। অন্যান্য বছর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠিপত্র দিয়ে জানানো হলেও এবার তাও করা হয়নি।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা পরিষদ সভাকক্ষে এক প্রস্তুুতিসভা অনুষ্ঠিত হয়, সভায় শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য লুসাই মং মারমা বলেন, পর্যটন খাত জেলা পরিষদের কাছে ন্যস্ত করা হলেও নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এরপরও পর্যটন শিল্পের প্রসারে বাধাগুলো কাটিয়ে উঠতে জেলা প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িতদের নিয়ে সমন্বয় করে কাজ করবে পরিষদ।
এদিকে ২৭সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসে উপলক্ষ্যে সকালে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে র্যালী শেষে সাংবাদিক ও উপস্থিত অনেকেই বিশ্ব পর্যটন দিবসে বান্দরবানে অন্যান্য বছরের তুলনায় নামমাত্রে এই দিবসের উদযাপন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে।
বান্দরবান সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এইচ এম সম্রাট বলেন, পর্যটন দিবস আমাদের পার্বত্য জেলার অহংকার ও ঐতিহ্যের একটি দিবস। অন্যান্য দিবস এর চাইতে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য আলাদা তবে যেনতেন ভাবে এবারের পর্যটন দিবস পালন করছে জেলা পরিষদ। শুধু একটি র্যালী আর একটি আলোচনাসভাই দিবস শেষ।
এদিকে বড় কোন আয়োজন ছাড়া যেনতেনভাবে পর্যটন দিবস পালন বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো.সানিউল ফেরদৌস জানান,দিবসটি একটি প্রতীকি। সরকার যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে সেভাবে দিবস উদযাপন হচ্ছে,আর পুরে জেলাতে বিভিন্নস্থানে বিভিন্ন কর্মসুচী চলছে। তিনি আরো জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন পরিচালিত ৪টি পর্যটনকেন্দ্র দিনব্যাপী পর্যটকদের বিনামুল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আরো জানান, এবছর হয়তো বর্ণাঢ্য আয়োজন হয়নি,তবে আগামী বছর পার্বত্য জেলা পরিষদ আরো জাকঁজমকভাবে এই দিবস উদযাপন করবে এই প্রত্যাশা করছি।
বান্দরবানে বিশ্ব পর্যটন দিবসের আয়োজক এর দায়িত্বে থাকা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো.নজরুল ইসলাম এর কাছে এই বিষয়ে জানতে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভি করেননি।
এদিকে যেনতেন ভাবে বান্দরবানের মত একটি পর্যটন জেলায় ফ্যাকাশেভাবে বিশ্ব পর্যটন দিবস আয়োজনে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মনে বিরুপ প্রভাব বিরাজ করছে।


