বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ভারতের মিজোরাম থেকে নিজ এলাকায় ফিরে আসা বম পরিবার, বিভিন্ন পাড়ার অসহায়-দরিদ্র মানুষ এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন (৩৬ বীর)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রুমা জোনের সংশ্লিষ্টরা এ কথা জানিয়েছেন।
সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ফেরত আসা পরিবারগুলোকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি অসহায় পরিবারের সদস্যদের শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রুমা জোন সূত্র জানায়, সম্প্রতি ভারতের মিজোরাম থেকে রুমা উপজেলার হ্যাপিহিল পাড়ায় দুটি পরিবারের ৯ জন, লাইরুনপি পাড়ায় একটি পরিবারের ৫ জন এবং মুন্নুয়াম পাড়ায় দুটি পরিবারের ৩ জন সদস্য নিজ নিজ পাড়ায় ফিরে এসেছেন। এসব পরিবারের পুনর্বাসনে রুমা জোনের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু, পেঁয়াজ, রান্নার সামগ্রী, সোলার সিস্টেম ও নগদ অর্থসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করা হয়।

এছাড়া মুন্নুয়াম পাড়ার লাল রুয়াদ্দান বম, অ্যালভেজ বম, ফ্লেক্স বম ও জেনিবিশ বমের মধ্যে মোট ১২টি ছাগল ও ১২টি টিন বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে মুনলাই পাড়ার জিং যোফ কিমকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব উদযাপন উপলক্ষে মারমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং বড়ুয়া পাড়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া রুমারচর নিচের পাড়ার মৃত মংচাইসিং মারমার দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তার ছোট মেয়ে হ্লা খিং প্রু মারমার পড়াশোনার খরচ বহন এবং বড় মেয়ে মেসিংউ মারমাকে দর্জি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রুমা জোন।
স্থানীয় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মিজোরাম ফেরত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সহযোগিতা এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোনের এই মানবিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানান স্থানীয়রা।



