সাজেক সংকট নিরসনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান ওয়াদুদ ভূঁইয়ার

আলোচনার পথ খোলা রয়েছে, বললেন দীপেন দেওয়ান

সাজেকের চলমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। পাহাড়ে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং পর্যটনশিল্পের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংকটের সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান ও কারবারিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলার হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শে‌ষে সাংবা‌দিক‌দের ব্রিফকা‌লে তিনি এসব কথা বলেন।

ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, পাহাড়ের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। পাহাড়ে চাঁদাবাজি বন্ধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পর্যটনশিল্পের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বলেন, সাজেকের পরিস্থিতি নিরসনে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। তবে পাঁচ দফা দাবি যারা জানিয়েছে, তাদের পরিচয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। কার সঙ্গে আলোচনা হবে, তা নির্ধারণ করাও জরুরি। এরপরও আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সাজেক সংকট থেকে উত্তরণের উপায় বের করা সম্ভব হবে।

NewsDetails_03

সম্মেলনকক্ষে জেলার হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। এ সময় ডিজিএফআইয়ের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিরাজ হায়দার চৌধুরী, পিএসসি, রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, হেডম্যান-কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সাজেকের আন্দোলনকারীদের মধ্যে হেডম্যান-কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানার ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ব্যবহৃত ওই ব্যানার তাদের নয়। এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে কারবারিদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সাজেক সংকটের পেছনে একটি আঞ্চলিক দলের স্বার্থ জড়িত এবং পর্যটনশিল্প ধ্বংস করাই তাদের লক্ষ্য—এমন অভিযোগও উঠেছে।

রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র সাজেকের চলমান পরিস্থিতিতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় পর্যটনশিল্পের ক্ষতি কমানো, স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা এবং পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে আলোচনা, সমঝোতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন