অপরুপ আলীকদমের দামতুয়া জলপ্রপাত

আলীকদমের দামতুয়া জলপ্রপাত
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার সবুজ পাহাড়ে লুকিয়ে আছে দামতুয়া জলপ্রপাত। অনায়াসেই যে কোন ভ্রমণ পিপাসুদের নজর কাড়বে এ পাহাড়ি ‘দামতুয়া’।
প্রকৃতির অপরূপ নিদর্শন এ জলপ্রপাতের ভরা যৌবন দেখার মোক্ষম সময় এই বর্ষাকাল। বর্ষা শুরু হলেই জল প্রপাতগুলো সাজে অপরূপ সাজে। সবুজ পাহাড়ের অন্তহীন নিস্তব্ধতায় ঝরনা রানীরা যেন আঁচল বিছিয়ে অভ্যর্থনা জানায় ভ্রমণ পিপাসুদের। জলপ্রপাতের শীতল জলে সিক্ত হতে প্রতিনিয়ত দেশের নানা প্রান্ত থেকে যাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। জেলার আলীকদম-থানচি সড়কের ১৭ কিলোমিটার পয়েন্টের আদু মুরুং পাড়া থেকে ৬-৭ কিলোমিটার দূরে এ জলপ্রপাতের অবস্থান। শতবর্ষ হতেই প্রবাহিত রয়েছে এ জলপ্রপাত। এতদিন সড়ক যোগাযোগ না থাকায় লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়ে গেছে এ ‘দামতুয়া’।
ভ্রমণ পিপাসু বাবু মং মার্মা জানান, দামতুয়া জলপ্রপাতের আকার-আকৃতি ও গঠনশৈলী অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। সবচেয়ে ভালো লাগে কয়েকশ’ গজ পাহাড়ের উপরে জলপ্রপাত। এ জলপ্রপাতের পাথুরে মাটির ধাপগুলো বিস্ময়কর সুন্দর। যেন সুদক্ষ কোনো রাজমিস্ত্রির নিপুণ হাতের তৈরি। দামতুয়া জলপ্রপাতের অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপ প্রমাণ করে যে এটি প্রকৃতির খেয়ালে গড়া অসাধারণ একটি স্থাপত্যশৈলী। দামতুয়া ঝরনার দু’দিকের খাড়া পাহাড়ি দেয়াল বেয়ে স্রোত গড়িয়ে পড়ছে নিচের গভীর জলাশয়ে। উঁচু থেকে পড়া পানির কিছু অংশ আবার জলীয় বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে এক ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে। দেখে মনে হবে যেন পাহাড়ে মেঘমালা। দামতুয়া জলপ্রপাতে নামার পথ পাথুরে মাটি। সেখানে নামতে তেমন সমস্যা হয় না। জলপ্রপাতের নিচে মাঝারি ধরনের জলাশয় আছে। এ জলশায়ে সাঁতার কাটতে ও গোসল করতে বেশ ভালো লাগে।
তিনি আরও বলেন, দামতুয়া জলপ্রপাতে পৌঁছার অন্তত এক ঘণ্টা আগে দেখা মিলবে ওয়াংপা ঝর্ণা। মূল ওয়াংপা দেখতে হলে খাড়া পাহাড় বেয়ে নিচে নামতে হবে। চলাচল পথের মাঝে অসংখ্য ছোটবড় পাথরের ভাঁজে শীতল জল যেন জানান দেয় ওয়াংপা জলস্রোত কেমন হবে। ওপর থেকে ওয়াংপার পানি গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য সবচেয়ে মনমুগ্ধকর। প্রকৃতির নান্দনিক এ সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন ভ্রমণপিয়াসী মানুষ। গা ভিজিয়ে যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ থেকে নিজেকে ধুয়ে মুছে সজীব করে তুলছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি দামতুয়া জলপ্রভাতের সৌন্দর্য ভ্রমণ পিপাসুদের মুগ্ধ করছে। বিধায় প্রতিদিনই পর্যটকে ভরপুর থাকে এ দামতুয়া। এটিকে আরো আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

যেভাবে যাওয়া যায় ‘দামতুয়া’:
ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজার থেকে সড়ক পথে বাসে করে চকরিয়া বাস স্টেশন নামতে হবে। সেখান থেকে আবার বাসে যেতে হবে আলীকদম বাসস্টেশন। এ বাস স্টেশন থেকে জিপ গাড়ি ভাড়া নেয়া যায়। অথবা বাস স্টেশন থেকে অটোরিকশায় পান বাজার এসে ভাড়ায় চালিত মোটরবাইক নিয়ে আলীকদম-থানচি সড়কের ১৭ কিলোমিটারের আদু মুরুং পাড়ায় নামতে হবে। সেখান থেকে স্থানীয় মুরুং গাইড নিয়ে উত্তর দিকে এক ঘণ্টা হাঁটলেই পাওয়া যাবে ওয়াংপা ঝরনার ওপরের অংশ। দামতুয়া জলপ্রপাত যেতে হাঁটতে হবে আরও অন্তত এক ঘণ্টা। পথে যেতে যেতে ৩টি স্থানে দেখা যাবে পাহাড়ের ঢালে বেশকিছু টং-ঘর। এসব স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠী মুরুং পাড়া। এখানকার মুরুংরা অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ ভ্রমণ পিপাসুদের মুগ্ধ করে।

আরও পড়ুন
Loading...