আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নে কয়টি জরিপ?

মাঠ পর্যায়ের জরিপ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৃহস্পতিবারের (১৫ নভেম্বর) বৈঠকে ৩০০ আসনে একাধিক জরিপের প্রতিবেদন হাজির করা হয়। এসব জরিপ কোনোটি দলীয়ভাবে করা, কোনোটি দেশি-বিদেশি পেশাদার গবেষণা সংস্থার করা, আবার কোনও জরিপ গোয়েন্দা সংস্থার করা। সব মিলিয়ে মোট ছয়টি জরিপের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় এ বৈঠকে।

বোর্ডের একাধিক সদস্য জানান, প্রার্থী মনোনয়ন দিতে সারা দেশে ছয়টি জরিপ করা হয়েছে। এরমধ্যে কিছু জরিপ প্রতি ছয় মাস পর পর হালনাগাদ করা হয়েছে।

আওয়মী লীগ সূত্র জানায়, জরিপে দলের বর্তমান এমপির সার্বিক কর্মকাণ্ড, দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও গ্রহণযোগ্যতা, নির্বাচনি এলাকার মানুষের কাছে তার ইমেজ ও জনপ্রিয়তা সম্পর্কে তথ্য রয়েছে। এছাড়া, দলের অন্যান্য আগ্রহী প্রার্থীদের সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়েছে। দলে কার কী অবদান, সাংগঠনিক তৎপরতা, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তার ও পরিবারের ভূমিকা, এক-এগারোর সময়ের ভূমিকা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে যোগসাজশ আছে কিনা, জরিপগুলোতে এসব তথ্য উঠে এসেছে । বর্তমান এমপিকে এক নম্বরে ধরে বাকি আগ্রহীদের সার্বিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তালিকায় ক্রম নির্ণয় করা হয়েছে। দলের আগ্রহী প্রার্থীদের পাশাপাশি অন্য দলের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পর্কেও জরিপে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গত তিনটি নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দলের ভোট, প্রার্থীর নিজস্ব ভোট আছে কিনা তা এবং ভাসমান ভোট টানার ক্ষমতার বিষয়টিও জরিপ প্রতিবেদনে তুলে আনা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও পাঁচ থেকে ছয়টি জরিপ রিপোর্টের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘জরিপ প্রতিবেদনে আসা তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করেই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।’

তবে কয়টি জরিপ হয়েছে এবং জরিপে কী কী আছে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কোনও নেতাই নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য বাংলা টিবিউনকে বলেন, ‘জরিপে আগ্রহী প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য আছে। তাদের পরিবারিক আদর্শ, রাজনৈতিক ব্যাক গ্রাউন্ড, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডসহ দল সংশ্লিষ্ট সব তথ্য রয়েছে জরিপে। কিন্তু কয়টি জরিপ করা হয়েছে, সুনিদ্দিষ্ট করে তা বলতে পারেননি তিনি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে খোঁজ-খবর নেওয়ার পাশাপাশি পেশাগত গবেষণা সংস্থা, এনজিও, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ নানা মাধ্যম দিয়ে জরিপ করানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কয়েক মাস পর পর জরিপ হালনাগাদও করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।