ঈদের ছুটিতে পর্যটক কম বান্দরবানে

প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের ভীড়ে মুখরিত হয়ে উঠে বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্রগুলো। তবে এবারের ঈদে আশানুরুপ পর্যটকের সমাগম ঘটেনি পর্যটন নগরী বান্দরবানে। হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলোতেও নেই তেমন একটা ভীড়।

প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে পাহাড়ের সৌন্দর্য্য দেখতে পর্যটকের ঢল নামে বান্দরবানে। হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলো থাকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ। কিন্তু এবছর ঈদের ছুটিতে আশানুরুপ পর্যটকের সমাগম ঘটেনি। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ভীড় লক্ষ করা গেলেও হোটেল মোটেল রিসোট গুলোতে নেই তেমন একটা বুকিং। জেলার মেঘলা, নীলাচল, প্রান্তিক লেক, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরি, নীল দিগন্ত, তমাতুঙ্গীসহ সবগুলো দর্শনীয় স্থানে কোলাহল মুক্ত পরিবেশে পর্যটকরা পরিবার পরিজন বন্ধু বান্ধব নিয়ে চাঁদের গাড়ীতে করে ছুটে বেড়াচ্ছে এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে। নগর জীবনের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা।

ঢাকা থেকে আসা রোকসানা বলেন,ঈদের ছুটি পেয়ে বান্দরবান বেড়াতে এসেছি। মঙ্গলবার নীলগিরি, আজ নীলাচল ও মেঘলা এবং বুধবার ঘুরবো রোয়াংছড়ি দেবতাকুম। বুধবার রাতেই ফিরে যাবো।

এদিকে করোনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে আশানুরুপ পর্যটক না আসায় লোকসানের কথা জানালেন হোটেল মোটেল রিসোর্ট মালিকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা।

জেলা আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবারে ঈদে জেলা শহর জুড়ে ৬৪টি আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে মাত্র ৩৫ শতাংশ বুকিং হয়েছে।

তবে পর্যটকদের জন্য সবধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান, ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা, বান্দরবান জোন ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, সাধারণত ঈদের ছুটিতে ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় হয়ে থাকে। সেই বিষয়টাকে মাথায় রেখে ট্যুরিস্ট পুলিশ, বান্দরবান রিজিয়নের সব সদস্যের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

ঈদের সময় ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীরা পর্যটন স্পটে হয়রানি বা কোনো সমস্যায় পড়লে ট্যুরিস্ট পুলিশ, বান্দরবান জোনের ফেসবুক পেজ ও হট লাইন নম্বরে অভিযোগ দেওয়া যাবে। অভিযোগ পেলে আমাদের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবেন।’

জেলায় পর্যটকদের সেবায় রয়েছে শতাধিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গেস্ট হাউস এছাড়াও পর্যটক পরিবহনে রয়েছে ৪ শতাধিক চাঁদের গাড়ী, সব মিলিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জেলার ২০ হাজার মানুষ পর্যটন ব্যবসার সাথে যুক্ত।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।