কাপ্তাইয়ের রাইখালিতে ফের সন্ত্রাসী হামলা

মাত্র ১২ঘন্টার ব্যবধানে রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী মতিপাড়ার বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা উচিং মারমা এবং সেনা কর্মকর্তা সিনিয়ার ওয়ারেন্ট অফিসার ক্যসুই অং মারমার বাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ স্বর্ণলংকার লুট করা হয়েছে।

রাইখালী মতি পাড়ার তালতলী এলাকায় বৃহস্পতিবার (২১নভেম্বর) রাত ২টার দিকে ১২/১৪জনের মুখোশপড়া একদল সস্ত্রাসী ২টি বাড়ি হামলা করে নগদ ২৫ লক্ষ টাকা, ৮ ভরি স্বর্ণলংকার, ডেভিট কার্ডসহ বিভিন্ন কাপড়চোপড় নিয়ে পালিয়ে যায়। সন্ত্রাসী দলটি বাড়ির লোকদের জিম্মি করে আসবাবপত্র ভাংচুর করার সময় বাড়ির মালিক উচিং মারমা বাঁধা দিলে তাকে বেদম প্রহার করা হয়। হামলাকারিরা মুখোশ পরিহিত, লাঠি ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত ছিল বলে তারা এই প্রতিবেদককে জানান। এই ব্যাপারে তাদের পরিবারের পক্ষ হতে চন্দ্রঘোনা থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে থানা সুত্রে জানা যায়।

উল্লেখ্য,একইদিন বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা রাইখালীর হাফছড়ি এলাকায় চাঁদার দাবিতে কুপিয়ে হামলা করে দশজন নির্মাণ শ্রমিককে। বর্তমানে তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দেড় বছর যাবৎ তারা ঐ এলাকায় একটি ব্রিজের নির্মান কাজের শ্রমিক হিসাবে কাজ করছিলো।

রাইখালি ইউনিয়ন এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন,ডাকাতদল একের পর এক হামলা ও লুটপাট করছে। পরপর একাধিক ঘটনায় বর্তমানে রাইখালি বাসীর মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।

এদিকে চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশ্রাফ উদ্দীন জানান, পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা রাইখালী এলাকায় একের পর এক হামলা করছে এবং চাঁদাবাজী করছে, এরা কোন ডাকাত দল নয় এরা হল মুখোশধারী সন্ত্রাসী। সস্ত্রাসী দলটি বৃহস্পতিবার (২১নভেম্বর) প্রকাশ্য দিনে দুপুরে দশ নির্মাণ শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করেছে। আমরা অভিযোগ পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিব।

একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা,আঞ্চলিক দল সমূহের মধ্যে সংঘাত, চাঁদাবাজ সহ বিভিন্ন কারনে এখন রাঙামাটি জেলার মধ্য কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী নাম সবখানে আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে। এলাকার জনগণ এই ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।