কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার বন্ধকালীন সময়ে অভিযান

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ
রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার বন্ধকালীন সময়ে সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে রাঙামাটি বিএফডিসি। বন্ধকালীন সময়েও কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার করছে অসাধু ব্যবসায়িরা, তাদের প্রতিহত করতে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রতিনিয়ত সাহসী অভিযান পরিচালনা করলেও চক্রটির মাছ পাচারে থেমে থাকেনি।
প্রতি মূহর্তে তারা কৌশল বদলিয়ে মাছ পাচারের কাজ চালাচ্ছে। পাশাপশি বিএফডিসি’র কর্মতৎপরতার উপর তাদের সোর্স কাজ করছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ছে। এ নিয়ে চরম বিপাকে বিএফডিসি। কেননা কাপ্তাই হ্রদে সবেমাত্র পোনা ছাড়া হয়েছেএবং হ্রদে মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করেছে। এসময়ে অসাধু চক্রটি ডিমওয়ালা মাছ শিকার করে উচ্চ দামে রাঙামাটি শহর ও রাঙামাটির বাইরের বাজারে বিক্রি করছে।
রাঙামাটি বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ বন্ধের একমাসের মধ্যে বিএফডিসি কাপ্তাই হ্রদে অবৈধ মাছ শিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে লংগদু উপজেলা থেকে ১৫টি এবং শহর এলাকা থেকে ২টিসহ ১৭টি ইঞ্জিনচালিত বোট আটক করেছে। এ পর্যন্ত পাচারকালে বিভিন্ন জাতের দুই টন মাছ আটক করতে সক্ষম হয়েছে যার আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ পর্যন্ত বলে বিএফডিসি সূত্রে জানানো হয়। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।
এদিকে বিএফডিসি সর্বশেষ বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে এসএ পরিবহন থেকে বিভিন্ন সাইজের ডিমওয়ালা ১১৬ কেজি ওজনের কাতাল মাছ উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত মাছগুলো ২৪হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করে বিএফডিসির ফান্ডে জমা হয়েছে বলে বিএফডিসি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এসময় কাউকে আটক করা যায়নি।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন’র (বিএফডিসি) রাঙামাটি শাখার উপ-ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম বলেন, সীমিত লোকবল দিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাচারের খবর যেখানে পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বিএফডিসি’র এ কর্মকর্তা আরও বলেন, একদিকে লোকবল সংকট অন্যদিকে ৭২৫ বর্গকিলোমিটারের বৃহৎ হৃদের মাছ রক্ষা করা সত্যিই কঠিন ও চ্যালেঞ্জের ব্যাপার বলে জানান।
এ কর্মকর্তা ক্ষোভের সাথে জানান, রাঙামাটিতে রয়েছে মাত্র ২৬জন নৌ-পুলিশ। অভিযানের সময় তাদের সঠিক সময়ে পাওয়া যায় না। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ ভাবে হ্রদে মাছ শিকারী অসাধু চক্রটির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, বিএফডিসি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি পথের তিনটি রুটে মাছ শিকার ও পাচার চলছে প্রতিনিয়ত। ইঞ্জিন চালিত বোটযোগে লংগদু, মেরুন, জামতলী নদী পথ হয়ে সড়ক পথে খাগড়াছড়ি এবং চট্টগ্রামে পৌছে যাচ্ছে হ্রদের মাছ। এছাড়া লংগদুর মাইনী হয়ে খাগড়াছড়িতে নৌপথে শুটকি পাচারও চলছে।
অপরদিকে, শহরের নিকটবর্তী হ্রদের কালিন্দিপুর, বালুখালী, কাইন্দারমুখ নদী পথের ঘাটগুলো বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করছে এ চক্রটি। শহরের তবলছড়ি- আসামবস্তী এবং আসামবস্তী- কাপ্তাই সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে অসাধু চক্রটি মাছ পাচার করে চট্টগ্রাম বা তার পাশ্ববর্তী জেলায় বিক্রি করছে। মাছ পাচারের জন্য দ্রুত যান হিসেবে তারা ব্যবহার করছে মাইক্রো, পিকআপ এবং অটোরিক্সা (সিএনজি)।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন’র (বিএফডিসি) রাঙামাটি শাখার ব্যবস্থাপক কমান্ডার (নৌবাহিনী) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমি নিজে সরাসরি অভিযানে চলে যাচ্ছি। সেটা সকাল কিংবা রাত হোক। কাপ্তাই হ্রদের হ্রদের মাছ রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। হৃদের মাছ শুধু দেশের সম্পদ নয় এ অঞ্চলের মানুষেরও সম্পদ। কমান্ডার আরও বলেন, তাই হ্রদের মাছ রক্ষা করা শুধু বিএফডিসি’র দায়িত্ব নয়, এ অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব রয়েছে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।