খাগড়াছড়িতে ছাত্রী গণধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নে অষ্টম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে ৬ জন সেটেলার বাঙালি কর্তৃক সংঘটিত নির্মম গণধর্ষণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদে ফেটে পড়ে পাহাড়ের ছাত্র-জনতা।
আজ শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকালে ত্রিপুরা স্টুডেন্টস্ ফোরাম, বাংলাদেশ-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রথমে একটি বিক্ষোভ মিছিল খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে শাপলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে মুক্ত মঞ্চে এসে সমাবেশে পরিণত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টিএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি খঞ্জন জ্যোতি ত্রিপুরা এবং সঞ্চালনা করেন টিএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটি সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক ত্রিপুরা। স্বাগত বক্তব্য দেন টিএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটি যুন্ম সাধারণ সম্পাদক টিটু ত্রিপুরা।
সম্প্রতি রথযাত্রা চলাকালীন সময় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ভাইবোনছড়া মেলায় অংশ নিতে গিয়ে রাত হয়ে যাওয়ায় বাসায় ফিরতে পারেননি। এ অবস্থায় ভাইবোনছড়ায় তার কাকার বাসায় রাত্রি যাপন করবেন মনঃস্থির করে তার চাচার বাসায় যান। চাচা ভাইবোনছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বাসায় ভাড়া থাকেন। তিনি চাচার বাসায় ঢোকার পূর্ব মুহূর্তে সেখানেই রাতের অন্ধকারে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা ৬ (ছয়) জন যুবক ওই বাসায় ঢুকে কাকাসহ আরো তিনজনকে হাত-পা বেঁধে গণপিটুনির পর একটা রুমে তালা মেরে ছাত্রীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করেন৷

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন টিএসএফ সদর শাখা সভাপতি আকাশ ত্রিপুরা, টিএসএফ মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখা সহ-সভাপতি ঝর্ণা ত্রিপুরা, জবা ত্রিপুরা, বিশিষ্ট সমাজকর্মী সুরেশ বরণ ত্রিপুরা ও অতুল বিকাশ ত্রিপুরা প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, “এটি শুধু একটি শিক্ষার্থীর ওপর পাশবিকতা নয়, পুরো পাহাড়বাসীর অস্তিত্বের ওপর আঘাত। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
তারা প্রশাসনের নিকট দাবি জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার কার্যক্রম শুরু করতে হবে এবং যেন ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
আয়োজক সংগঠন ত্রিপুরা স্টুডেন্টস্ ফোরাম, বাংলাদেশ-এর নেতৃবৃন্দ জানান, “এই বর্বরতার বিচার না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”
সমাবেশে শত শত শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা পাহাড়ে নারী নির্যাতনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।



