খাগড়াছড়ির রামগড়ে ৬ ছাত্র আহত

খাগড়াছড়ির রামগড়ে আহত  ছাত্ররা
খাগড়াছড়ির রামগড়ে আহত ছাত্ররা
খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ে ছাত্রদের এক গ্রুপের হামলায় অন্য গ্রুপের ৬ ছাত্র আহত হয়েছে। সোমবার সকালের দিকে রামগড়ের চৌধুরীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার বিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

বিদ্যালয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় সকাল সাড়ে নয়টার সময় ছাত্ররা যথারীতি বিদ্যালয়ে আসলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ থেকে ২০জন ছাত্র বিদ্যালয়ের পাশের বটতলায় ছাত্রদের অন্য গ্রুপের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। ওদের শোর-চিৎকারে বিদ্যালয়ে শিক্ষক, ছাত্র ও স্থানীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে আহতদের উদ্ধার করে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহতরা হলেন, নবম শ্রেণীর ছাত্র মো. মোজাম্মেল হক, আফসার হোসেন, ওমর ইবনে ওবায়েদ ও অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র মোবারক হোসেন, মো. সেলিম ও সাজ্জাদ হোসেন।

হামলায় আহত মোজাম্মেল হক জানায়, শনিবার ক্লাসে সামনের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে নবম শ্রেণীর ছাত্র হ্লাচাই
মারমার সাথে কথা কাটাকাটি হলে বিষয়টি শ্রেনী শিক্ষক তাৎক্ষনিক মিমাংসা করে দেন। পরবর্তীতে আজ সোমবার বিদ্যালয়ে আসলে হ্লাচাই মারমার নেতৃত্বে বহিরাগত ও বিদ্যালয়ের ছাত্র মিলে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল ব্লেড, চাকু, চাবুক, লাঠি দিয়ে আমাদের উপর হামলা করে।

এদিকে ঘটনার পরপর হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ে ছুটে যান রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তামান্না নাসরীন উর্মি, রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মাইন উদ্দিন খান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংপ্রুসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

পরবর্তীতে দুপুরের দিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তামান্না নাসরীন উর্মির নেতৃত্বে জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িতদের কোন ছাড় দেয়া হবেনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ী-বাঙ্গালী সম্প্রীতি নষ্ট করার কোন সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাইন উদ্দিন খান জানান, এ ঘটনায় জড়িত হামলাকারীদের মূলহোতাকে আটক করা হয়েছে। অন্য হামলাকারীদের নাম পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন
Loading...