
অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর, সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এবং পার্বত্য সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরাসহ প্রাচীন এই বিদ্যালয়ের দেশে-বিদেশে অবস্থানরত আলোকিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যোগ দেবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম পুনর্মিলনী আগামী ২৩ ডিসেম্বর। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের স্বাগত জানাতে চলছে শেষ মুর্হুতের প্রস্তুতি। শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া পুনর্মিলনী উৎসবে যোগ দিতে দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা খাগড়াছড়ি আসতে শুরু করেছেন। দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি শেষ সময়ে এসে বেড়েছে ব্যস্ততা। ষাট বছরে বিভিন্ন ব্যাচের স্মৃতি রোমন্থ করে দিতে একাডেমিক ভবন গুলোর দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে রঙিন দেয়াল চিত্র। পৃথক পৃথক ব্যাচের তোরণ, ফেস্টুন ও ব্যানারে ছেঁয়ে গেছে জেলা শহরের বিভিন্ন অলিগলি।
শিক্ষার্থীরা জানান, একদিন পরেই প্রিয় ক্যাম্পাসে প্রাক্তন ও বর্তমানদের মিলন মেলা। দেখা হবে পুরানো অনেক বন্ধুর সাথে। যারা আগেভাগে চলে এসেছেন তারা ঘুরে ঘুরে উৎসব প্রস্তুতির তদারকি ও কাজ করছেন। পাহাড়ের প্রাচীন বিদ্যাপীঠের পুনর্মিলনী উৎসবকে সম্প্রীতির মেলবন্ধন উৎসবে পরিণত করতে আয়োজক কমিটির ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানালেন।
খাগড়াছড়িরর বিলাসবহুল আবাসিক হোটেল ‘গাইরিং’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. অনন্ত ত্রিপুরা জানান, পূর্নমিলনী উৎসবকে ঘিরে তাঁর হোটেলের সব ফ্লোরের প্রতিটি কক্ষই টানা চার দিনের জন্য আগাম বুকিং হয়ে গেছে। তাছাড়া রুম সংকটে রুফটপও ভাড়া হয়েছে।
তিনি জানান, জেলা শহরের প্রতিটি আবাসিক হোটেলের মতো খাবার রেস্টুরেন্টগুলোতেও চলছে বাড়তি চাপ। খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রথম পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটি’র যুগ্ম আহব্বায়ক জানে আলম বলেন,
উৎসবমুখর পরিবেশে পুনর্মিলনী উৎসব সম্পন্ন করতে জেলাবাসীর সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেছেন আয়োজকরা।
খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উদযাপন কমিটির সচিব শ্রীলা তালুকদার জানান, পূর্নমিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কয়েক হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থী অন-লাইনে রেজিস্ট্রেশন করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং পৌর মেয়র মো: রফিকুল আলম জানান, বর্ণাঢ্য এই উৎসবকে সফল করতে পুরো শহরের সাজসজ্জায় নেয়া হয়েছে নানামুখী বর্ণিল উদ্যোগ। এরমধ্যে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, দেয়ালে দেয়ালে নান্দনিক চারুকারু, রঙিন ব্যানার ফেস্টুন, নানা রঙের আলোচ্ছটার ব্যবস্থাসহ উড্ডীয়মান বেলুন অন্যতম।
উদযাপন কমিটির আহব্বায়ক এবং খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. সুধীন কুমার চাকমা জানান, ছয় দশকের পুরনো এই বিদালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী সমাজের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। দেশে এবং দেশের বাইরে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদে আসীন। তাঁদেরকে একটি দিনের জন্য এক মাঠে সম্মিলন ঘটাতে পূর্নমিলনী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।



