জানুয়ারিতেই তৃণমূল আওয়ামীলীগে শুদ্ধি অভিযান

%e0%a6%86%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%97বিরোধপূর্ণ সাংগঠনিক জেলাগুলো চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরপর তৃণমূলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসন করতে নতুন বছরের শুরুতেই মাঠে নামবে দলটি। একইসঙ্গে চলবে শুদ্ধি অভিযানও। দলের সর্বস্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানো ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তৃণমূলের বিরোধ নিরসনে ‘সিরিয়াস’ হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ক্ষমতাসীন দলটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিজেরাই যেন মিটিয়ে ফেলতে পারেন, এ জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে আওয়ামী লীগ। এই চেষ্টা ব্যর্থ হলে বিরোধ নিরসনে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেবে দলটি। কেন্দ্র থেকে কঠোর নির্দেশনা থাকবে, ‘তৃণমূল নেতাকর্মীরা কোনও গ্রুপিংয়ে জড়াতে পারবেন না’, ‘কোনও গ্রুপিংয়ের ইন্ধন দেওয়া যাবে না’। এর ব্যত্যয় ঘটলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও গাইবান্ধার সাঁওতালপল্লীর ঘটনায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। এতে বিপাকে পড়েছে দলটি। এ কারণে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দূর করতে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করতে চায় নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি।

জানা গেছে, বিরোধপূর্ণ সাংগঠনিক জেলা চিহ্নিত করতে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একিদে সাংগঠনিক সম্পাদকরা দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের নিজ-নিজ জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বিরোধপূর্ণ জেলার চিত্র নিতে শুরু করেছেন।

বিরোধপূর্ণ জেলাগুলো চিহ্নিত করতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইতোপূর্বে দু’টি বৈঠকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশের পর দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে বেশ কয়েকটি জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে।

সাংগঠনিক সম্পাদকদের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে যে কয়েকটি বিরোধপূর্ণ জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে তা হলো পাবনা, নাটোর, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, বান্দরবান, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম সিরাজগঞ্জ রয়েছে। এসব জেলায় কোথাও-কোথাও ত্রি-ধারায়, আবার দুই ধারার রাজনীতি চলছে। এর বেশির ভাগই পদ-পদবি ধরে রাখা, সুবিধাভোগী-সুবিধাবঞ্চিত থাকা ও ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিরোধ রয়েছে।

নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো জানায়, টানা ক্ষমতায় থাকার কারণে সাংগঠনিক জেলাগুলোতে পদ-পদবি ধরে রাখা ও সুবিধাভোগী-সুবিধাবঞ্চিত মহলের মধ্যে বিরোধপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আর এগুলো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সমাধান করে ফেলতে চায় ক্ষমতাসীনরা। এ জন্য সাংগঠনিক জেলাগুলোয় কর্মিসভা, বর্ধিত সভাও করবে আওয়ামী লীগ। তাই আগে বিরোধের কারণ ও বিরোধপূর্ণ সাংগঠনিক জেলার তালিকা শেষ করতে চায় আওয়ামী লীগ।

সম্পাদকমণ্ডলীর দুই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কোনও জেলায় দেখা গেছে একজন সংসদ সদস্য আছেন, পরের দফায় যেন তাকে বাদ দেওয়া যায়, এ জন্য এমপিবিরোধী একটি অংশ গড়ে উঠেছে। তাদের লক্ষ্যই হলো, কিভাবে এমপিকে ফাঁদে ফেলা যায়। আবার কোনও জেলায় দায়িত্ব থাকা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দু’জন বিরোধে জড়িয়েছেন। আবার দেখা যায়, একজন মেয়র আছেন, পরের বার যেন তিনি মেয়র না থাকেন, আরেকজনকে দেওয়া হয়, এজন্য তার দোষ খুঁজে বের করতে প্রতিপক্ষ লেগেই আছে। এছাড়া আধিপত্যবাদ, প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করা ও ব্যক্তি-গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। এবারের অভিযানে এসব বিরোধ নিরসন করা হবে।’

সম্পাদকমণ্ডলীর অন্য একজন নেতা জানান, ‘প্রত্যেক জেলার ওপর পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্র। পর্যবেক্ষণ শেষে মাঠে নামবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কয়েকটি টিম। এসব টিম জেলা সফর করে প্রথমে কর্মিসভা, পরে বর্ধিত সভা করবে। সেখানে নেতাকর্মীদের কাছে তিনটি আবেদন রাখা হবে। এগুলো হলো কোনও ধরনের গ্রুপিংয়ে জড়ানো যাবে না, গ্রুপিংয়ে ইন্ধন দেওয়া যাবে না, ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থ উর্ধ্বে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে দলের গঠণতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আগামী বছরের শুরুতেই সাংগঠনিক সফর শুরু করবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এর অন্যতম কারণ দলের অভ্যন্তরে কোনও কোন্দল থাকলে, তা দূর করা।’ তিনি বলেন, ‘কোন কোন জেলায় অভ্যন্তরীণ কলহ রয়েছে, তার খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। কী কারণে এসব কলহ হচ্ছে, তাও চিহ্নিত করা হবে। এরপরই সমাধানের দিক-নির্দেশনা দেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।’

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে দল চলবে। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘আগামী বছরের শুরু থেকে দলের অভ্যন্তরে সব ধরনের অসঙ্গতি দূর করে নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করার উপযোগী করা হবে আওয়ামী লীগকে। কিছু কিছু জেলায় অভ্যন্তরীণ কলহ রয়েছে। তবে শিগগিরই তা নিরসন করা হবে।’

রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে মূলত সাংগঠনিক সফর শুরু করবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এ সফরে তৃণমূলে কোনও কলহ থাকলে আমরা তা দূর কর’। খবর-বাংলা ট্রিবিউন এর

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।