জেলা প্রশাসককে দেখে খুশিতে আত্মহারা খুমি সম্প্রদায়

রোয়াংছড়ির দুর্গম সাংকিং খুমি পাড়ায় বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে খুমি নৃত্য
বান্দরবানের প্রথম কোন জেলা প্রশাসক রোয়াংছড়ির দুর্গম সাংকিং খুমি পাড়া পরিদর্শনে গিয়ে স্বাক্ষী হলেন যেন ইতিহাসের। জেলা প্রশাসককে দেখে খুশিতে আত্মহারা খুমি সম্প্রদায়, কারন এর আগে কোন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের চরন পরেনি খুমি পাড়ার পাহাড়ী মাটিতে।
খুমিদের সাংক্রাইং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক। সাংকিং খুমি কারবারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উৎসবে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য সিং ইয়ং ম্রো, অনলাইন নিউজ পোর্টাল পাহাড়বার্তা’র সম্পাদক সাদেক হোসেন চৌধুরী, বাংলাভিশন প্রতিনিধি আল ফয়সাল বিকাশ,পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি’র ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল হক,খুমি সম্প্রদায় নেতা সি ইয়ং খুমিসহ স্থানীয় খুমি সম্প্রদায়ের পাড়া প্রধানরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে জেলা দিলীপ কুমার বণিক প্রশাসক বলেন, অন্যান্য সম্প্রদায়ের মতো খুমি সম্প্রদায়ের যে সংস্কৃতি আছে তা এ ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখতে হবে। পাহাড়ীদের বৈচিত্রময় কৃষ্টি সংস্কৃতি ভাষা আলাদা। তিনি বলেন, পাহাড়ীদের বড় সমস্যা হলো তারা সীমিত পরিবার নিয়ে এক একটি পাড়া তৈরী করে বসবাস করে। ফলে নাগরিক সুবিধা ঠিক মতো পায় না। কয়েকটি পাড়া একত্রিত হলে বড় একটি গ্রামে পরিণত হবে। এই গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ পানি সমস্যা সমাধান করা সহজতর হবে।
জেলা পরিষদ সদস্য সিং ইয়ং ম্রো বলেন, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি পাহাড়ের এমন কোন জায়গা বাকী রাখেন নাই যেখানে উন্নয়ন হয় নাই। এই খুমি পাড়ার যাতায়াত সহজ করার জন্য ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা করে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বীর বাহাদুরের উন্নয়ন যে পরিমান হয়েছে তাকে কারো কাছে ভোট চাইতে হবে না।
রোয়াংছড়ির দুর্গম সাংকিং খুমি পাড়ায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক ও পাহাড়বার্তা’র সম্পাদক সাদেক হোসেন চৌধুরী
অনলাইন নিউজ পোর্টাল পাহাড় বার্তা ডট কম’র সম্পাদক সাদেক হোসেন চৌধুরী বলেন, বীর বাহাদুর এমপি শিক্ষানুরাগী এবং তিনি এই জাতিকে শিক্ষিত করার জন্য পাড়ায় মহল্লায় বিদ্যালয় করে দিয়েছেন, যেখানে ছাত্রাবাস লাগে সেখানে ছাত্রবাস তৈরী করে দিচ্ছেন। সাদেক হোসেন চৌধুরী উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখার জন্য তিনি আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বীর বাহাদুরকে ভোট দেয়ার আহবান জানান।
বাংলাভিশন প্রতিনিধি আল ফয়সাল বিকাশ বলেন, খুমি পাড়ায় পানি ও বিদ্যালয় সংকট নিত্যনতুন নয়। বিদ্যালয় সংকট নিরসনে হয়তো আগামীতে স্কুলভবন হবে কিন্তু পানি সংকট নিরসন কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। সামান্য অর্থের লোভে পাথর আর কাঠ বিক্রির কারণে পানির উৎস ধ্বংস হয়ে গেছে, যার কারণে ছড়া বা ঝরনা থেকে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানির উৎসস্থল নষ্ট না করার জন্য তিনি উপস্থিত সকলের কাছে অনুরোধ জানান।
এই ব্যাপারে স্থানীয় সিঅং খুমি পাহাড়বার্তাকে বলেন, আমাদের পাড়াটি এই প্রথম কোন জেলা প্রশাসক দেখতে এসেছে, এটা নিয়ে আমরা বেশ খুশি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।