নিয়মিত নির্যাতনের শিকার নিবেদিতা রোয়াজা !

মামুনকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংসদ সচিবালয়ের কোয়ার্টারে থেকে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগ এর সাবেক নেত্রী নিবেদিতা রোয়াজা ওরফে নুসরাত (২৭) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে তার স্বামী কতিথ পুলিশ কর্মকর্তা মামুন মিল্লাত। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে গত শনিবার (১২ জুন) তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর নুসরাতের স্বামী মামুন মিল্লাতকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে,পারিবারিক অশান্তির জের ধরে মামুন মিল্লাতের কারণে নিবেদিতা রোয়াজা আত্মহত্যা করেছে। তাকে আটক করতে পারলেই নিবেদিতা রোয়াজা’র আত্মহত্যার পেছনের বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে মনে করছে ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ।

শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি সদরের ঠাকুরছড়া পাড়ার নিবেদিতা রোয়াজা ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করেন। বিয়ের আগে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের সময় মামুন মিল্লাত নিবেদিতা রোয়াজাকে বলেছিল সে (মামুন) বিসিএস ক্যাডার পুলিশ কর্মকর্তা। আর সেই পরিচয়েই বিয়ের পর সংসদ সচিবালয়ের কোয়ার্টারে বাসা ভাড়া নেয় মামুন। পরে নিবেদিতা রোয়াজা জানতে পারে মামুন পুলিশে কর্মরত নয়, মামুনের এই প্রতারণা জানতে পেরে পারিবারিক কলহের জের ধরে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে নিবেদিতা রোয়াজা’র ঝুলন্ত লাশের চিত্র দেখে খাগড়াছড়ি জেলার অনেক স্থানীয় এটিকে আত্মহত্যা বলে বলে উড়িয়ে দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচিত্র স্ট্যাটাস দিয়ে এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত দাবী করে স্বামী মামুন মিল্লাতের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন।

জানা যায়, বিয়ের পর কিছুদিন তাদের দাম্পত্য জীবন সুখে কাটলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় দিলেও মামুন মিল্লাতের আচরণ সন্দেহজনক মনে হতে শুরু করে নিবেদিতা রোয়াজা’র কাছে। মামুন মিল্লাত অফিসে কেন যায় না, পুলিশের কাজ কর্ম নিয়ে নানা বিষয়ে নিবেদিতা রোয়াজা তার কাছে জানতে চাইত। কিন্তু এসব কথা যথারীতি এড়িয়ে যেত মামুন মিল্লাত। পরে এক সময় তাদের পরিবারে অর্থ সংকটও দেখা দেয়। এরপর থেকে নিয়মিত তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতে থাকে।

থানা সূত্রে আরও জানা যায়, নিবেদিতা রোয়াজা’র আত্মহত্যার চার-পাঁচ মাস আগে থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ আরও বেড়ে যায়। সেই সময় মামুন মিল্লাত নিবেদিতা রোয়াজাকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালাত। প্রায়ই মামুন মিল্লাত নিবেদিতা রোয়াজাকে মারধর করত। মামুন মিল্লাতের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নিবেদিতা রোয়াজা এসব কথা তার বন্ধুবান্ধব ও পরিবার-পরিজনকে জানিয়েছিল একাধিকবার।

শনিবার (১২ জুন) দুপুরে সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টারের একটি বাসা থেকে দুপুর ১টার দিকে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশের একটি টিম এসে বাসার দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নিবেদিতা রোয়াজা’র মরদেহ দেখতে পায়। পরে নিবেদিতা রোয়াজা’র মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

এ বিষয়ে শনিবার শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুন্সি সাংবাদিকদের জানান, নিবেদিতা রোয়াজা আর মামুন মিল্লাত সচিবালয় কোয়ার্টারের একটি বাসায় সাবলেট থাকত। সে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নিবেদিতা রোয়াজা ওরফে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।