পানছড়িতে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অর্ধ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

নিম্নদরের টেন্ডারে উচ্চদরের কার্যাদেশ

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অরুণ কুমার দাসের বিরুদ্ধে নিম্নদরের দরপত্র অহ্বান করে উচ্চদরে কার্যাদেশ দেয়া, কাজ না করে বিল উত্তোলন, ঠিকাদারদের সাথে মিলে সরকারি অর্থ ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এই নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে স্থানীয় ঠিকাদার মো. গিয়াস উদ্দিন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ১৯ -২০ অর্থ পানছড়ি উপজেলায় পিইডিপি-৪ এর আওতায় ৬টি বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ৫টি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

নি¤œদরের দরপত্রে কাজ পাওয়ার পরও তা আবার বাতিল করে অন্য ঠিকাদারকে তা আবার ৫ শতাংশ উচ্চদরে কার্যাদেশ দেন এই প্রকৌশলী। এতে প্রতি স্কুল নির্মাণ বাবদ ৬ লক্ষ টাকা করে ৩৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় উপজেলা প্রকৌশলী। একইভাবে ৫টি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ১০ শতাংশ উচ্চদরে কার্যাদেশ দিয়ে ঘুষ হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা উপজেলা প্রকৌশলী’র পকেটে যায়। নিম্নদরে কাজ উচ্চদরে কার্যাদেশ দেয়ার ক্ষেত্রে এই সংক্রান্ত সভা করার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। এতে সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ গচ্চা যাচ্ছে। এছাড়া টেন্ডার প্রক্রিয়ায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাদুর রহমানকে সদস্য সচিব হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ তিনি চার বছর আগে পানছড়ি থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন।

অভিযোগ রয়েছে সরকারদলীয় উত্তম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব অনিয়ম করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী অরুণ কুমার দাস। নি¤œদরের কাজে উচ্চদরে কার্যাদেশ দেওয়ার কারণে সরকারি অর্থ নয়ছয় হচ্ছে।

পানছড়ি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের আওতায় গত দুই অর্থবছরে মানিক্য পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ, তবলছড়ি রাস্তায় বল্লি প্ল্যাইনাডিং, সাঁওতাল পাড়ায় রাস্তার রক্ষার জন্য সাইড ওয়াল নির্মাণ, পুকুর খনন, সেচ ড্রেন নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া জিএসআইডিপি প্রকল্পের ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উপজেলা মসজিদ নির্মাণ, প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুইটি বিদ্যালয়ে ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করে বাকী টাকা ঠিকাদারের যোগসাজসে উপজেলা প্রকৌশলী নিজে আত্মসাৎ করেছেন।

স্থানীয় ঠিকাদার ও পানছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মোমিন জানান, উপজেলা প্রকৌশলী অরুণ কুমার দাস দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সরকারি অর্থের নয়ছয় করেছেন। সম্প্রতি স্কুল ভবন নির্মাণ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দরপত্র নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম করছেন। নিম্নদরের একটি কাজ আরো ১০ শতাংশ বেশি দিয়ে এক ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেন। এতে সরকারি বিপুল অর্থ গচ্চা যাবে।

উপজেলা প্রকৌশলী অরুণ কুমার দাস দরপত্রে অনিয়ম ও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে বলেন, এসব কিছু আমি করিনি যা করেছে অফিসের সিন্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে। ইজিপি পদ্ধতির দরপত্রে কারচুপির কোন সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর খাগড়াছড়ি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান আলী বলেন, পানছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী বিরুদ্ধে বেশ কিছু লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এসব বিষয় তদন্ত করে দেখার জন্য সিনিয়র এক প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কোন অনিয়ম বেরিয়ে আসলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।