পার্বত্যঞ্চলের বুকে বেঁচে থাকার লড়াই সংগ্রাম শুরু হবে : সন্তু লারমা

সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা।
পার্বত্যঞ্চলের বুকে নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই সংগ্রাম শুরু হবে হুশিয়ারী উচ্চারন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু। তিনি বলেন,সরকার আজকে জনসংহতি সমিতি সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে অস্ত্র গুজে দিয়ে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।
প্রতিক্রিয়াশীল সুবিধাবাদী চুক্তিবিরোধীদের রুখে দাঁড়ান এ শ্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার দুপুরে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনিষ্টিটিউট মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ২৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ২২৩ম কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকার অব্যাহতভাবে চুক্তি বিরোধী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করে বলেন, ১৯৯৭ সালে বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার চুক্তি স্বাক্ষর করলেও চুক্তিকে পদদলিত করছে। পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাচ্চু চাকমার সভাপতিত্বে ছাত্র সমাবশে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মহিম,ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সভাপতি জি এম জিলানী ,সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারন সম্পাদক নাসিরউদ্দিন প্রিন্স, এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের আবায়ক বিজয় কেতন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের চন্দ্রা ত্রিপুরা।
রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনিষ্টিটিউট মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ২৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অতিথিরা
সমাবেশে সন্তু লারমা আরো বলেন,জুম্ম জনগন এখানে সংখ্যালঘুতে পরিনত হয়েছে। সরকার পার্বত্যাঞ্চলকে পরিনত করেছে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে। তিনি আরো বলেন,আমরা জানিনা বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী এই পার্বত্যঞ্চলকে কি করতে চাই। এ পার্বত্যাঞ্চল জুম্ম জনগনের এখানকার আদি পুরুষরা হিংস্র জন্তু জানোয়ারদের সাথে লড়াই করে এখানে আবাদ করেছে। বাংলাদেশের কোন শাসকগোষ্ঠী এ অধিকার কেড়ে নিতে পারেনা।
সন্তু লারমা সমাবেশে চুক্তি বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, চুক্তিবিরোধী যারা আছেন তারা সতর্ক হয়ে যান। নিজের অবস্থান সম্পর্কে চিন্তা করুন। তিনি বলেন, ৪৭ বছর ধরে এ পাহাড়ের বুকে আমাদের জীবন ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা কথা বলি,বিভিন্ন কাজ করি কিন্তু আমাদের বুকের ভিতর যে আগুন জ্বলছে, যে দু:খ বেদনা আমাদের বুকে সঞ্চারিত হয়েছে, পুঞ্জিভুত হয়েছে সেটা কি শেখ হাসিনার সরকার বা শাসকগোষ্ঠী বুঝতে চান? কিন্তু আগুন বুকের ভিতর সবসময় চেপে থাকবেনা এ আগুন বেরিয়ে আসবে এবং বেরিয়ে আসার বাস্তবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে আমি মনে করি।
পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের দুদিনব্যাপী সম্মেলনে তিনপার্বত্য জেলাহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মী, জনসংহতি সমিতি, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও যুব সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
1 মন্তব্য
  1. Aumg Manma বলেছেন

    আগের মতো সংগ্রাম কর সকল জুম্ম জাতি লড়াই কর। সেটালা বাংগালীকে সরকার কুকুর কে হত্যা কর তখন কোথায় পালাবি দেখবে যতই শয্যা করবি ততই নির্যাতন করবি এরা আর না পিছিয়ে এবার লড়াই শুরু কর

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।