পার্বত্য চট্টগ্রামে নদী সুরক্ষা ও স্থলবন্দর নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় প্রবাহমান নদী সমূহের সীমানা নির্ধারণ, নাব্যতা হ্রাস এবং মায়ানমার সীমান্তে স্থল বন্দর নির্মাণে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণ এবং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে আজ প্রথম বারের মত সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজ সকাল সাড়ে ১০ টায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খান সভাপতিত্ব করবেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বহমান নদী সমূহের সুরক্ষা ও উন্নয়ন তদারকির সাথে সংশ্লিষ্ট নদী রক্ষা কমিশন, বিআইডব্লিউটিএ, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ছাড়াও সভায় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী, আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি, পার্বত্য জেলা পরিষদের তিন চেয়ারম্যান ও সার্কেল চীফগণকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবাহমান নদীসমূহের সুরক্ষা ও উন্নয়নে পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গত ২৩ জানুয়ারি নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব বীর বাহাদুর উশৈসিং এম,পি’র সাথে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের নদী সমূহ সুরক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে। পাহাড়ের জনজীবন এবং নদী-ঝিরি-ঝর্ণার সুরক্ষা অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। এ প্রাণ প্রবাহ থেমে যাওয়া মানে জনজীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়া। নদী রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে বীর বাহাদুর উশৈসিং এম,পি বলেন, আগামীতে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, চেঙ্গীসহ পাহাড়ের নদীসমূহে নৌযান চলাচল প্রতিটি মৌসুমে সচল ও বিঘ্নহীন রাখার স্বার্থে যে সব এলাকায় নাব্যতা হারিয়েছে সেখানে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা, স্থলবন্দর নির্মাণসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত: নদীর উজানে ও বিভিন্ন উৎসস্থলে নির্বিচারে বন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, তামাক চাষ, আইনের তোয়াক্কা না করে অবাধে পাথর উত্তোলনের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বহমান কর্ণফুলী, সাঙ্গু, চেঙ্গী ও মাতামুহুরী নদীর অস্তিত্ত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। নদীকেন্দ্রিক পরিবেশ বিরোধী নানা কর্মকান্ড, নদী দখল তৎপরতা বন্ধে যেন দেখার কেউ নেই। এমনি পরিস্থিতিতে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ, পাহাড়ের নদীসমূহ সুরক্ষা ও উন্নয়নে কিছুটা হলেও আলোর মুখ দেখবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন অনেকেই।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।